দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে শিগগিরই বাংলাদেশে আবাসিক হাই কমিশন খোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কেনিয়া।
বুধবার ঢাকায় দুই দেশের ‘ফরেন অফিস কনসালটেশনে’ (এফওসি) বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৈঠকে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ ও স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, ব্লু ইকোনমি, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। আর কেনীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়ক মহাপরিচালক জোসপাত মাইকারা।
কেনিয়ায় বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। ওষুধ, তৈরি পোশাক, হালকা শিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভালো অবস্থানের বৈঠকে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি মানসম্পন্ন ও সুলভ ওষুধ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কেনিয়া। বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানিকে কেনিয়াতে আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশে উচ্চমানের কফি, শিমজাতীয় শস্য, তুলা এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস রপ্তানির প্রস্তাবও দিয়েছে তারা।”
দুই দেশের মধ্যে ঝুলে থাকা চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য কার্যক্রম দ্রুত করার বিষয়ে একমত হয়েছে উভয়পক্ষ। দ্বৈত করারোপ, বিনিয়োগের প্রসার ও সুরক্ষা, ব্লু ইকোনমিতে সহযোগিতা, চুক্তিভিত্তিক কৃষিসহ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত রয়েছে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ এবং ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) মতো বহুপাক্ষিক সংস্থায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও কেনিয়া। দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের কথাও উঠেছে বৈঠকে।
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নাইরোবিতে দুই দেশের মধ্যে এফওসি হয়েছিল। সেখানে পরবর্তী এফওসি হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৮ সালের অক্টোবরে।
