নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অবস্থিত শহীদ মিনার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর ৬টার মধ্যে কোনো একসময় শহীদ মিনারটি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। ইতিপূর্বেও শহীদ মিনারটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তবে গত রাতে বাকি দুটি পিলারও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনাটি কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের সেকেন্দার আলী নামে একজন মুদি দোকানদার পানি নিতে বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শহীদ মিনারটি ভাঙা অবস্থায় দেখেন। বিষয়টি জানা যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন থানা-পুলিশকে খবর দেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ২০১৬ সালে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের জায়গায় রাস্তার পাশে নির্মিত আটটি আধাপাকা দোকানের একজন ভাড়াটিয়া দোকানদার মো. সাগর হোসেন নিজ অর্থায়নে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করে দিয়েছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এলাকাবাসী ফুটবল ও ক্রিকেট খেলেন। ইট দিয়ে নির্মিত শহীদ মিনারটির ভেতরে রড ছিল না বলে তাঁরা দাবি করছেন। এর আগে একটি স্তম্ভে ফাটল দেখা দিয়েছিল এবং সেটি আংশিক ভাঙা অবস্থায় ছিল। এ কারণে স্থাপনাটি দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়তে পারে বলে কারো ধারণা রয়েছে। আবার কেউ কেউ এটিকে সরাসরি ভাঙচুরের ঘটনা বলে দাবি করছেন।
খবর পেয়ে বদলগাছী থানার ওসি হাবিবুর রহমান ও এসআই কামরুলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এসআই কামরুল জানান, ঘটনাটি কতটুকু সত্য তা সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে ভাঙচুর বলে মনে হচ্ছে। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শুক্লা রানী জানান, শহীদ মিনার ভাঙা অবস্থায় পাওয়ার খবর পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ে এসেছেন। তাঁর ভাষ্য, শহীদ মিনারটি আগে থেকেই নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। প্রধান শিক্ষিকা শুক্লা রানী আরও জানান, রাতের আঁধারে কে বা কারা শহীদ মিনারটি ভেঙেছে, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তবে যারা এ ধরনের ন্যক্কারজনক কাজ করেছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত। এই ঘটনায় আজ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরীর রাতের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন পরিপত্র অনুযায়ী তাঁদের দায়িত্ব পালনে শিথিলতা আনা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা রাতে দায়িত্ব পালন করেন না।
বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাইদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানেছেন। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিয়েছেন।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
