পটুয়াখালী সদর উপজেলায় দুটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের প্রায় সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন ছাড়াই প্রায় ৯১ লাখ টাকার ভুতুড়ে বিল পরিশোধের গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পটুয়াখালীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট দল। এ সময় অভিযুক্ত উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশার ও সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন দুদকের কর্মকর্তারা।
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়ালিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক নোটিশে দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেওয়া হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ডব্লিউ-৩৫ প্যাকেজের আওতায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া-চাটুয়া স্লুইসগেট-উত্তর বিরাজলা স্কুল সড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উন্নয়নকাজে প্রায় ৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়। এই প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের পাশাপাশি প্রায় ৪৭ লাখ টাকার কাজ একেবারেই বাস্তবায়ন না করে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ডব্লিউ-৩৬ প্যাকেজের আওতায় দুটি সড়কের মোট ১২ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার উন্নয়নকাজে প্রায় ৯৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বিল পরিশোধ দেখানো হয়েছে। এই প্যাকেজেও প্রায় ৫০ লাখ টাকা অতিরিক্ত এবং প্রায় ৪৪ লাখ টাকার অসমাপ্ত কাজের বিপরীতে বিল পরিশোধের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে দুটি পৃথক প্রকল্পে বাস্তবে কোনো কাজ সম্পন্ন না করেই প্রায় ৯১ লাখ টাকা পরিশোধের এই ঘটনায় সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও হরিলুটের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এলজিইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত দুই প্রকৌশলী ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অসদুদ্দেশ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই অনিয়ম করেছেন। এর ফলে পুরো অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। শুধু তাই নয়, শোকজ নোটিশে অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত ওই ৯১ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশও দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশার কোনো সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং অপর অভিযুক্ত সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সড়ক পরিদর্শন শেষে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস সংবাদ মাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রকল্পের কাজ এবং পরিশোধিত বিলের হিসাবে ব্যাপক অসংগতি ও ৯১ লাখ টাকার ভুতুড়ে বিলের প্রমাণ মিলেছে। নিরপেক্ষ প্রকৌশলী ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সড়কের নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান ও বাস্তব কাজের পরিমাপ যাচাই করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন হাতে পেলেই এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সরকারি তহবিলের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত এমন দুর্নীতিবাজদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
