ফুটবল মাঠে অসামান্য সাফল্য এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ স্পেনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার’ পেয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দীর্ঘ ফুটবলজীবনের অর্জন এবং মাঠের বাইরের মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় আস্তুরিয়াস অঞ্চলের রাজধানী ওভিয়েদোতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেসির হাতে পুরস্কার তুলে দেন স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী রাজকন্যা লিওনর। তাঁর নাম অনুসারেই পুরস্কারটির নামকরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মেসিকে একটি স্মারক দলিলও দেওয়া হয়।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
অনুষ্ঠানস্থলে মেসির উপস্থিতিকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। ঐতিহ্যবাহী ব্যাগপাইপ ও ঢোলের বাদ্য বাজিয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সি পরা কয়েক ডজন সমর্থক তাঁর নাম ধরে স্লোগান দেন। প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে দেখতে পেরে তাঁদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
চলতি বছরের জুনে মেসিকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। সে সময় বিচারকমণ্ডলী তাঁকে সর্বকালের অন্যতম সফল ফুটবলার হিসেবে প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে তাঁর উদ্যোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে মেসির ফুটবলীয় দক্ষতার প্রশংসা করেন রাজকন্যা লিওনর। তিনি বলেন, মেসি অসাধারণ অর্জনকে যেন প্রতিদিনের স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করেছেন। খেলার পরিস্থিতি দ্রুত বুঝতে পারা, মুহূর্তের মধ্যে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ব্যক্তিগত অহংকারের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
১৯৮১ সালে প্রবর্তিত প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারকে অনেক সময় স্পেনের নোবেল পুরস্কার বলেও অভিহিত করা হয়। শিল্পকলা, বিজ্ঞান, ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান এবং মানবকল্যাণে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর এ পুরস্কার দেওয়া হয়। মানুষের মধ্যে সহাবস্থান, সংহতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করাও এ সম্মানের অন্যতম লক্ষ্য। পুরস্কারটির সঙ্গে রয়েছে ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্য, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭০ লাখ টাকার সমপরিমাণ।
এবারের অনুষ্ঠানে মেসির পাশাপাশি আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ লেখক জুলিয়ান বার্নস, যুক্তরাষ্ট্রের নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ এবং সংগীতশিল্পী প্যাটি স্মিথ।
এর আগে ক্রীড়া বিভাগে এ পুরস্কার পেয়েছেন টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস ও রাফায়েল নাদাল, ম্যারাথন দৌড়ের কিংবদন্তি এলিউদ কিপচোগে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্কিয়ার লিন্ডসে ভন।
ফুটবল বিশ্বে অসংখ্য শিরোপা ও ব্যক্তিগত সম্মাননা অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নে অবদানের জন্য মেসির এই স্বীকৃতি তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরেও একজন ক্রীড়াবিদের মানবিক ভূমিকা যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মানিত হতে পারে, এ পুরস্কার তারই দৃষ্টান্ত।
-20261024043216.jpg&w=1440&q=75)