অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া দেওয়া বাসায় ডিবির অভিযান, আটক ৮৪
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
খবরের কাগজ গ্রাফিকস
-->পুলিশ সদর দপ্তরের এডিশনাল ডিআইজি (পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-২) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাসায় রাতভর অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাজধানীর ভাটারা থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এলাকার ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য ও নারীসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত চলে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির উত্তরা বিভাগের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, ওই বাসাটি পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের বাসা। তিনি বাসাটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে অবৈধভাবে মাদকসেবন, ডিজে পার্টি পরিচালিত হচ্ছিল। সেখান থেকে ২৬ জন মহিলা ও ৫৮ জন পুরুষকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে মাদকদ্রব্য। আটকদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও আছেন। এ ব্যাপারে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এয়ারবিএনবি হলো- একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষ তাদের বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ভিলা বা রুম স্বল্প ও দীর্ঘ সময়ের জন্য পর্যটক বা অতিথিদের কাছে ভাড়া দিতে পারেন এবং অতিথিরা বুকিং করতে পারেন।
আরও পড়ুন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে , ওই বাসা থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ, কনডম জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ইয়াবা খাওয়ার সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের ডিসি ইলিয়াস কবির জানান, ওই বাসাটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দিয়েছিলেন। ওখানে একজন কোহোস্ট ও হোস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। কোহোস্ট মাহবুবুল আলম আটক আছেন। এয়ারবিএনবিকে ভাড়া দেওয়া হলেও ওই বাসা থেকে যা আয় হতো তার ৭০ শতাংশ নিতেন জহির।
ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অ্যাডিশনাল ডিআইজি আটক কোহোস্টকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবিরও করেছিলেন। আড়াই তলার থ্রিপ্লেক্স বাড়িটিতে প্রতি রাতেই অবৈধভাবে মদসহ ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো।
এসএন/
আরও পড়ুন
ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করা কাম্য নয়: টেলিযোগাযোগমন্ত্রী
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ছবি: খবরের কাগজ
-->ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, দেশটা সবার এই চেতনাকে ধারণ করে আমাদের সবাইকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা ও পৌর বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৩৬টি পূজামণ্ডপে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ অর্থ সহায়তা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আরও পড়ুন
মন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসা তাদের অনুপ্রাণিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা মানুষের পাশে থাকবে এবং তাদের উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষায় কাজ করবে, জনগণ তাদের সমর্থন দেবে এটাই গণতান্ত্রিক অধিকার।’
আরও পড়ুন
ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, ‘দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ, আনন্দমুখর ও সম্প্রীতির পরিবেশে উদ্যাপনের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা তাদের দায়িত্ব।’
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনায় সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
এ সময় ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ এম আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পৌর বিএনপি ধনবাড়ীর সভাপতি এসএমএ সোবাহান, ধানবাড়ী উপজেলা বিএনপি সম্পাদক এনামুল হক ভিপি । ধনবাড়ী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন, হিন্দু ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা, সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী মধুপুর উপজেলা পরিষদে নবনির্মিত পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন।
জুয়েল রানা/রিফাত/
আরও পড়ুন
‘ভয় নয়, প্রতিবাদ হোক’ পূজামণ্ডপে ‘অভয়া’র বার্তা
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে ‘অভয়া’ থিমে সাজানো হয়েছে পূজামণ্ডপ। ছবি: খবরের কাগজ
-->মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের সবুজবাগ এলাকার একটি পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গার প্রতিমার পাশাপাশি স্থান পেয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী স্লোগান। দেয়ালে কোথাও মুষ্টিবদ্ধ হাত, কোথাও চোখ বাঁধা নারীর প্রতিকৃতি। লাল রঙের হাতের ছাপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নিপীড়ন, রক্তক্ষরণ ও প্রতিরোধের প্রতীকী চিত্র। বড় অক্ষরে লেখা ‘ভয় নয়, প্রতিবাদ হোক’।
নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির বার্তা নিয়ে এবার দুর্গাপূজার আয়োজন করেছে সবুজবাগ যুব দুর্গাপূজা উদ্যাপন পরিষদ। ১৮তম বর্ষের আয়োজনে তাদের থিম ‘অভয়া’। দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি নারীর সাহস, অধিকার ও আত্মমর্যাদার বিষয়টি তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ।
মণ্ডপে ঢুকতেই চোখে পড়ে নারী জাগরণ, অধিকার ও সমতার নানা বার্তা। বেদিতে দেবী দুর্গার প্রতিমার ওপরে ও আশপাশে লেখা রয়েছে ‘ভয় নয়, প্রতিবাদ হোক’ এবং ‘অভয়া, প্রতিবাদী নারীর কণ্ঠস্বর’। মণ্ডপের দেয়াল সাজানো হয়েছে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া, কবি সুফিয়া কামাল, ইলা মিত্র, রানি রাসমণি ও কাদম্বিনী গাঙ্গুলীর বাণী দিয়ে।
আরও পড়ুন
মুষ্টিবদ্ধ হাত, চোখ বাঁধা নারীর প্রতিকৃতি এবং লাল হাতের ছাপের চিত্রকর্মে তুলে ধরা হয়েছে নারীর ওপর নিপীড়ন, অবদমন ও প্রতিবাদের ভাষা। দেয়ালে সাঁটানো স্লোগানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘প্রতিবাদ মানেই বিদ্রোহ নয়, প্রতিবাদ মানেই বিবেক’, ‘অপরাধীর লজ্জা, ভুক্তভোগীর নয়’ এবং ‘পোশাক নয়, মানসিকতা বদলাও’। এসব স্লোগানে মণ্ডপটি হয়ে উঠেছে নারীর অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে এক প্রতিবাদী মঞ্চ।
আয়োজকেরা জানান, ‘অভয়া’ শুধু একটি নাম নয়, এটি ভয়কে জয় করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নারীর সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক। নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাতেই এ থিম বেছে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
শিক্ষার্থী সুস্মিতা দেব বলেন, দুর্গাকে আমরা অশুভ শক্তির বিনাশ ও ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে দেখি। সেই ভাবনার সঙ্গে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের বার্তা যুক্ত করায় আয়োজনটি আরও অর্থবহ হয়েছে। সমাজের সবার এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।
সাংস্কৃতিক কর্মী ঐন্দিলা চাকলাদার বলেন, দুর্গাপূজায় সাধারণত প্রতিমা ও আলোকসজ্জা দেখতে আসি। কিন্তু এই মণ্ডপে এসে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো নতুন করে ভাবার সুযোগ হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে এমন সামাজিক বার্তা যুক্ত করা প্রশংসনীয়।
আরেক দর্শনার্থী শিক্ষিকা সুপ্তা আচার্য বলেন, থিমভিত্তিক পূজা এখন অনেক জায়গায় হয়। তবে সামাজিক সমস্যাকে এভাবে তুলে ধরলে মানুষ শুধু দেখে চলে যাবে না, বিষয়টি নিয়ে ভাববেও। নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
আয়োজক কমিটির সভাপতি ত্রিদিব রক্ষিত বলেন, আমরা প্রতিবছরই থিমভিত্তিক পূজা করি। এবার আমাদের থিম অভয়া। সমাজে নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। অভয়া কোনো নাম নয়, এটি প্রতিবাদী নারীর কণ্ঠস্বর। নারীদের অন্ধকারে রাখলে সমাজ কখনো এগোতে পারে না। এসব চিন্তা থেকেই আমরা মণ্ডপ সাজিয়েছি।
পুলক পুরকায়স্থ/এসএন
আরও পড়ুন
রাজশাহীর উন্নয়নে পদ্মা ব্যারাজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দর আধুনিকায়নের দাবি ভূমিমন্ত্রীর
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। ছবি: সংগৃহীত
-->রাজশাহীর সার্বিক উন্নয়নে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং শাহ মখদুম বিমানবন্দর আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। একই সঙ্গে রাজশাহীতে শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, কৃষিপণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি এবং কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব দাবি তুলে ধরেন ভূমিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রাজশাহীর সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই ঐতিহাসিক মাঠে তাঁরা একাধিকবার বক্তব্য দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে রাজশাহীকে ‘গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ভালোবাসা রয়েছে। এ অঞ্চলের উন্নয়নে তিনি ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছেন। রাজশাহীর মানুষের প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
পদ্মার ওপর ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একসময় দেশের খাদ্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর কৃষি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার প্রসারে রাজশাহীতে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান ভূমিমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবা আধুনিক ও সহজলভ্য করা এবং একটি শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
রাজশাহীর কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শাহ মখদুম বিমানবন্দর আধুনিকায়ন ও কার্গো বিমান চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, কৃষিপণ্য রপ্তানির উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। এ ছাড়া রাজশাহী বাইপাস সড়ক প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন উদ্যোগগুলো এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে ২০২৪ সালের আন্দোলনে জীবন দেওয়া তরুণদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভূমিমন্ত্রী। দেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলনে রাজশাহীর মানুষের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুন রায়, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন, আব্দুল মুক্তাদির এমপি, সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রমুখ। জনসভা সঞ্চালনা করে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন।
এনায়েত করিম/এসএন
আরও পড়ুন
রাজশাহীতে ৩৯ হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
-->রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মাঝে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আখচাষিদের প্রণোদনা ও জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বোতাম টিপে এ অর্থ সংশ্লিষ্ট চাষিদের মোবাইল একাউন্টে দেএওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমি কম্পিউটার একটা বোতাম চাপ দেবো। চাপটা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আখচাষি ভাইদের একাউন্টে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সহযোগিতা কয়েক মিনিটের মধ্যে ইনশাল্লাহ পৌঁছে যাবে।’
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, ‘সরকার আখচাষিদের সহযোগিতার জন্য মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দের অর্থ ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমি আশা করছি কৃষকদের এ সহযোগিতা তাদের আখ চাষে সহায়তা করবে।’
প্রধানমন্ত্রী ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কম্পিউটারের বোতাম চাপেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় জনসভাস্থলে উপস্থিত হাজারো মানুষও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করে এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন
অনুষ্ঠানে ১৫ জন আখচাষিকে চেক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এরা হলেন- আবু সাঈদ চান, আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মন্ডল, এমাজ উদ্দিন, মো. কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এ সমাবেশে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। জনসভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ও পুরুষরা ছিলেন। এর আগে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানান।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
জনসভা শেষে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
রিফাত/
