Published on
:
2 min read
স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে পুজোর ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন পাহাড়ে। সম্পূর্ণ সুস্থ, স্বাভাবিক ছিলেন বলে দাবি। পরিবারকে নিয়ে আনন্দে সময় কাটাচ্ছিলেন। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় বারাসতের নপাড়া মা সারদা রোডের বাসিন্দা বুবাই পালের (৪৭)। ধাক্কা সামলে উঠতে পারেননি স্ত্রী জয়িতা পাল ও মেয়ে। নাবালিকা মেয়ের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত হবে কী ভাবে? চিন্তায় ডুবে রয়েছেন জয়িতা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সাহায্যের কাতর আবেদন জানালেন তিনি।
পরিবার সূত্রে খবর, গত ১৭ অক্টোবর রাতে ট্রেনে চেপে পাহাড়ের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। ১৮ অক্টোবর নিউ জলপাইগুড়িতে নেমে মানেভঞ্জন হয়ে সান্দাকফুতে পৌঁছন। সেখানে এক রাত কাটিয়ে টুমলিংয়ে যান তাঁরা। জয়িতা পালের কথায়, বেড়াতে যাওয়ার আগে তাঁর স্বামীর কোনও শারীরিক সমস্যা ছিল না। টুমলিংয়ে রাতে স্বাভাবিক ভাবে খাওয়াদাওয়ার পরে পরিবারের সঙ্গে গল্প করছিলেন বুবাই। আচমকাই শরীর খারাপ লাগার কথা জানান তিনি। এর পরেই জল খেতে গিয়ে স্ত্রী ও মেয়ের গায়ে ঢলে পড়েন তিনি। হোম স্টে-তে থাকা চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
চিকিৎসকদের মতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বুবাই পালের। পরে, দার্জিলিংয়ে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। সেখানেও হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি উঠে আসে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী।
বাড়ির কাছেই একটি কসমেটিক্সের দোকান ছিল বুবাই পালের। সংসার চালানোর জন্য সেটাই সম্বল। বাধ্য হয়ে সেই দোকান চালাচ্ছেন জয়িতা। কতদিন চালাতে পারবেন জানেন না। স্বামীকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন জয়িতা। তাঁদের একমাত্র মেয়ে (দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া) পড়াশোনাও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। স্বামীর মৃত্যুর দু’দিন পরেই ছিল মেয়ের জন্মদিন। সেই পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তাঁর কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন, এই কঠিন সময়ে যেন আমাদের পাশে দাঁড়ান। একমাত্র মেয়েকে বড় করে তোলা এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি।’
