‘চাল দে, ডাল দে, নইলে সাজেক খুলে দে’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে খাগড়াছড়ি শহর। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে চলমান সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং দ্রুত পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সাজেকে পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং এই খাতের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট দাবিতে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন আন্দোলনকারীরা। পার্বত্য যানবাহন মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আইয়ুস চাকমার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন কটেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চাকমা জন, শ্রমযান কল্যাণ সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন, ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য উজ্জ্বল দে এবং সমঅধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আসাদউল্লাহ আসাদ প্রমুখ।
শ্রমিক, আবাসিক হোটেল, কটেজ ও রেস্তোরাঁ এবং এর সঙ্গে জড়িত লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা সরাসরি নির্ভরশীল। কিন্তু কোনো ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি বা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই রাঙামাটি জেলা প্রশাসন পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করায় এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত ১১ অক্টোবরের এক বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেকে অবস্থান, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দুই সশস্ত্র সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট নিরাপত্তাঝুঁকির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতারা এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হোটেল-মোটেল ও পরিবহন খাতের উদ্যোক্তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কর্মচারীদের মাসিক বেতন, ব্যাংক ঋণের কিস্তি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটাতে গিয়ে তারা এখন দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। পাহাড়ে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দমন করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তারা।
স্মারকলিপিতে সাজেককেন্দ্রিক সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। সভাপতির বক্তব্যে আইয়ুস চাকমা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অনতিবিলম্বে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে আগামীতে হরতালের মতো কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। অবিলম্বে এই পর্যটন সংকট নিরসন করে সাজেকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি তীব্র দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
