কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াঘাট-বড়বাজার সংযোগ সড়কে গড়াই নদীর ওপর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণের দাবিতে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন কার্যালয়ে পাঠাতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত গত শনিবার এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিটি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, শহীদ আবরার ফাহাদের
পিতা মো. বরকত উল্লাহ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ১ নম্বর কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াঘাট-বড়বাজার সংযোগ সড়কে গড়াই নদীর ওপর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ বিষয়ে কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কয়া, শিলাইদহ, চরসাদীপুর, নন্দলালপুর ও হরিপুর ইউনিয়নের একাংশের প্রায় দুই লাখ মানুষ এ এলাকার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ জীবিকা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অগ্নিনির্বাপণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে নৌকায় গড়াই নদী পার হয়ে কুষ্টিয়া শহরে যাতায়াত করেন। এতে শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, রোগী ও প্রসূতি মায়েদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, সেতুটি নির্মিত হলে কুষ্টিয়া শহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহের কুঠিবাড়ী ও ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়ার মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন আবেদনকারীরা।
শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহ এলাকাবাসীর পক্ষে সেতুটি নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে সেতু নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন বা নির্মাণকাজ শুরুর কোনো সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এতে মূলত আবেদন অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে, ২০২৫ সালের ৬ মার্চ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সেতু নির্মাণের আবেদন করা হয়েছিল।
