বয়স ৭৫ পেরোলেও ফিটনেস ও অ্যাকশন দৃশ্যে অনুরাগীদের মুগ্ধ করেন দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত। তাঁর ফিটনেসের রহস্য জানতে আগ্রহী অনুরাগীদের মনে প্রশ্ন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসে কী ধরনের পরিবর্তন আনা উচিত? বিশেষ করে ৪০ বছর পেরোলেই ভাত, দুধ, দই, চিনি ও নুনের মতো সাদা খাবার বাদ দেওয়ার যে পরামর্শ শোনা যায়, তা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত?
রজনীকান্তের ডায়েট নিয়ে প্রচলিত নানা দাবির মধ্যে এই প্রশ্নও উঠে এসেছে। তবে অভিনেতা সত্যিই ৪০ বছর বয়সের পর এই খাবারগুলি বর্জনের পরামর্শ দিয়েছিলেন কি না, তার নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করা জরুরি। কারণ, কোনও তারকার ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে।
ভাত পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই:
সাদা ভাত কার্বোহাইড্রেটের গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যা শরীরে শক্তি জোগায়। তাই বয়স ৪০ পেরোলেই ভাত খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে ভাতের সঙ্গে শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম কিংবা মাংস খাওয়া ভালো। লাল চাল বা ব্রাউন রাইস থেকেও বেশি আঁশ পাওয়া যেতে পারে। ডায়াবেটিস থাকলে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী ভাতের পরিমাণ নির্ধারণ করা জরুরি।
দুধ ও দই কেন খাবেন?
দুধ ও দই ক্যালশিয়াম এবং প্রোটিনের ভালো উৎস। বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড় ও পেশির সুস্থতা বজায় রাখতে এই পুষ্টি উপাদানগুলি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিশেষ কোনও স্বাস্থ্যগত সমস্যা না থাকলে শুধু সাদা রঙের খাবার বলে এগুলি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সম্ভব হলে চিনি ছাড়া দই বেছে নিন।
চিনি ও নুনে সতর্কতা জরুরি:
অতিরিক্ত চিনি ওজন বৃদ্ধি, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত নুন উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে পাঁচ গ্রামের কম নুন খাওয়া উচিত। তাই মিষ্টি পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি এবং বেশি নুনযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার কমানো ভালো।
৪০ পেরিয়ে সুস্থ থাকার উপায়:
বয়স বাড়লেই সব সাদা খাবার বর্জন করতে হবে, এমন কোনও সর্বজনীন নিয়ম নেই। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত খাওয়াদাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শরীরচর্চার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা সাজানো উচিত।
সাদা রঙের সব খাবার বাদ দেওয়াই সুস্থ থাকার নিয়ম নয়। বরং কোন খাবার কতটা খাচ্ছেন, খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য আছে কি না এবং আপনার শরীরের বিশেষ চাহিদা কী রয়েছে সেদিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
