নভেম্বরের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ শেষ করার সম্ভাবনা রয়েছে। তার পর কাউন্সেলিং। শেষে শারীরিক সুস্থতার পরীক্ষা ও পুলিশি যাচাই শুরু হবে। দীর্ঘ দিন ধরে চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থীরা। তাই তাঁদের একাংশ দাবি করছেন, গোটা প্রক্রিয়ায় যেন আর কোনও বিলম্ব না হয়। পাশাপাশি স্বচ্ছতার দাবিও তুলছেন তাঁরা।
প্রার্থীদের একাংশের অভিযোগ, পুলিশি যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় এর আগে নানা ভাবে হেনস্থা হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে যেন কোনও ভাবেই আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ যেন না ওঠে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার দাবিও দানিয়েছেন তাঁরা।
কোনও শিক্ষকের নিয়োগপত্র পাওয়ার প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে শারীরিক সুস্থতার পরীক্ষা এবং পুলিশি যাচাই। অভিযোগ অতীতে এই প্রক্রিয়া অনেকটাই মন্থর ছিল। তাই এ বার দ্রুত ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং যে প্রার্থীদের ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তাঁদের যেন নতুন করে একই প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে না হয়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি লালু দাসের কাছে এই দাবি জানিয়েছে অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (এপিজিটিডব্লিউএ)। প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল পরীক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে শিক্ষক সংগঠন। শিক্ষকদের অভিযোগ, বিগত সময়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মাধ্যমে পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং মেডিক্যাল ফিটনেস টেস্টের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে হয়েছে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার পথে বাধা হয়েছে।
মেডিক্যাল পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংগঠনের প্রস্তাব, আগে যাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে, তাঁদের কাছে থাকা মেডিক্যাল রিপোর্টের তথ্য বিবেচনা করে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হোক। এ জন্য কার্যকর পদক্ষেপ করার পাশাপাশি ফের মেডিক্যাল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক না করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশের আবেদন জানানো হয়েছে।
এ ছাড়াও, রাজ্যের প্রতিটি জেলার সদর হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল অথবা প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোযুক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের (সিএমওএইচ) অধীন হাসপাতালে মেডিক্যাল ফিটনেস টেস্টের ব্যবস্থা চালুর দাবি তুলেছে এপিজিটিডব্লিউএ। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন তৈরি এবং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের মতে, জেলায় জেলায় পরীক্ষার সুযোগ তৈরি হলে প্রার্থীদের হয়রানি কমবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াও দ্রুত এগোবে।
অন্য দিকে, পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার উপরেও জোর দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন জেলা থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশনকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে সামনে এসেছে। এই ধরনের অভিযোগ যাতে না ওঠে, সে জন্য রাজ্য সরকার, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং স্কুল শিক্ষা দফতরকে যৌথ ভাবে উদ্যোগী হওয়ার আবেদন জানিয়েছে তারা।
সংগঠনের রাজ্য কমিটির সম্পাদক চন্দন গড়াই জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলি দ্রুত, স্বচ্ছ ও পরিকল্পিত ভাবে সম্পন্ন করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, অযথা দীর্ঘসূত্রিতা ও পুনরাবৃত্তি এড়িয়ে দ্রুত নিয়োগের পথ প্রশস্ত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
