স্পোর্টস ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার সময় সবারই আসে। কিন্তু সেই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
পর্তুগাল জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ঘটনায় এমন মন্তব্যই করেছেন তার সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সতীর্থ ওয়েন রুনি।
‘স্টিক টু ইউনাইটেড’ অনুষ্ঠানে রোনালদোর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন ইংল্যান্ডের সাবেক এই ফুটবলার।
পর্তুগাল দলের অনুশীলন শিবির ছেড়ে যাওয়া এবং পরে বিবৃতি দেওয়ার ঘটনাকে ভুল হিসেবে দেখছেন তিনি। রুনির মতে, এতে দলের কোচ, সতীর্থ ও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের প্রতি অসম্মান দেখানো হয়েছে।
রুনি বলেন, ‘রোনালদো এত বড় একজন খেলোয়াড়। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, কেন সে এমন করল? যেদিন মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে বিদায় নেওয়ার আবেগঘন মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, সেদিনই কি রোনালদো পর্তুগালের অনুশীলন শিবির ছেড়ে চলে যায়নি? এরপর তার সেই বিবৃতি প্রকাশ করাও আমার দৃষ্টিতে সব দিক থেকেই ভুল ছিল।
’
রোনালদোর এমন আচরণে কোচ ও সতীর্থদের অসম্মান করা হয়েছে বলে মনে করেন রুনি। তিনি বলেন, ‘কোচ ও সতীর্থদের যেভাবে হেয় করেছে, তা একেবারেই ভুল। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনকেও অসম্মান করেছে সে। ফুটবলের দৃষ্টিকোণ থেকে, সতীর্থ হিসেবে এবং কোচের জায়গা থেকে দেখলেও পুরো বিষয়টি ভুল ছিল। ব্যাপারটি দেখা মোটেও সুখকর ছিল না।’
এরপর রোনালদোর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের প্রসঙ্গ টেনে রুনি বলেন, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়কেই একটা সময় আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়তে হয়, এমনকি একসময় খেলাটাকেই বিদায় জানাতে হয়। এটা সবার ক্ষেত্রেই ঘটে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, রোনালদো বিষয়টি ভালোভাবে সামলাতে পারছে না। এটা দেখতে অস্বস্তিকর।’
সম্প্রতি পর্তুগাল জাতীয় দলের অনুশীলন শিবির ছেড়ে বিতর্কের জন্ম দেন রোনালদো। পরে এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, নরওয়ের বিপক্ষে অসলোতে ম্যাচে তাকে ৩০ মিনিট খেলানোর কথা দিয়েছিলেন কোচ হোর্হে জেসুস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি তাকে। রোনালদোর অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পরও তাকে ম্যাচের আগে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়েছিল।
নরওয়ে-পর্তুগাল ম্যাচ শেষে সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় না করে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যাওয়ার জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেন রোনালদো। পাশাপাশি দলের অনুশীলন শিবির ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় সতীর্থদের কাছেও ক্ষমা চান তিনি। নিজের আচরণের দায় স্বীকার করে রোনালদো বলেন, ‘আমার এমনটা করা উচিত হয়নি। এর সম্পূর্ণ দায় আমার।’
বিবৃতিতে কোচের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার কথাও তুলে ধরেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। তার দাবি, নিজের ভুলের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছিলেন জেসুস। দুজনের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনে কোচ নিজের ভুল স্বীকার করবেন এবং রোনালদোর প্রশংসা করবেন। রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, জেসুসের বলার কথা ছিল, ‘পেলে বা ম্যারাডোনার মতো একজন খেলোয়াড়কে দিয়ে ওয়ার্মআপ করিয়ে পরে তাকে মাঠে না নামানো আমার ভুল হয়েছে।’ কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন তার বিরুদ্ধে যে শাস্তিই দিক, তা মেনে নিতেও প্রস্তুত রোনালদো। তিনি বলেন, ‘আমার কর্মকাণ্ডের পরিণতি কী হবে, তা তাদেরই মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমার মনে হয়, শাস্তি কমানো উচিত নয়। আমি আর দশজন খেলোয়াড়ের মতো নই, আমি দলের অধিনায়ক। এটা আমার অপরাধকে আরও গুরুতর করে তোলে। আমি ক্ষমা চেয়েছি, কিন্তু জানি, কাজের পরিণতি ভোগ করতে হয়।’
