এফসি গোয়া বাদে আইএসএল আর অন্য কোনও দলের এই ঝক্কিটা সামলাতে হচ্ছে না, যা ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাসকে সামলাতে হচ্ছে। একদিন আইএসএলের ম্যাচ খেলে ঠিক পরের দিনই পরিকল্পনা শুরু করতে হচ্ছে এএফসির ম্যাচের জন্য। ফলে একদিকে যেমন দু’ধরনের ম্যাচের জন্য আলাদা আলাদা পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। সেরকম আবার ফুটবলারদের চোট-আঘাতও সামলাতে হচ্ছে। কারণ, পরপর ম্যাচ খেলতে গিয়ে ফুটবলাররা চোটের কবলে পড়লে আইএসএল-আইএফএ, দু’ধরনের ফরম্যাটেই সমস্যায় পড়ে যাবেন কোচ আন্তেনিও লোপেজ হাবাস। হয়তো সেই কারণেই রোহিত দানুকে বাদ দিয়ে বিদেশি ফুটবলার, ইকোনোমিডিসকে নিয়ে বৃহস্পতিবার পুণে যায় ইস্টবেঙ্গল।
পুণেতে ইস্টবেঙ্গল যখন পৌঁছেছে তখন দুপুর ২টো বেজে গিয়েছে। অন্য কোথাও মাঠ না পেয়ে পুণের বালেওয়াড়ি স্টেডিয়ামকেই নিজেদের হোমগ্রাউন্ড হিসেবে বেছে নিয়েছে ইন্টার কাশী। এমনিতে পুণে হাইওয়ের পাশে এই বালেওয়াড়ি স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে লোকজন খুব একটা ভিড় করেন না। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল খেলবে বলে হয়তো পুণের স্থানীয় বাঙালিরা হাবাসের দলের খেলা দেখতে মাঠে ভিড় জমাতে পারেন।
আইএসএলের প্রথম ম্যাচে ইন্টার কাশী যেখানে ওড়িশা এফসির সঙ্গে ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র করেছিল। সেখানে প্রথম ম্যাচেই গোয়ার মাটিতে চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ অভিযান শুরু করেছে ইস্টবেঙ্গল। একদিক থেকে এই মরশুমে চার্চিল ব্রাদার্সের সঙ্গে ইন্টার কাশীর অনেক মিল রয়েছে। দু’টো দলই এই মরশুমে একেবারে শেষ মুহূর্তে দল তৈরি করেছে। ফলে ইস্টবেঙ্গল যেখানে ডুরান্ড, শিল্ড, এএফসি খেলে অনেকটাই তৈরি হয়ে গিয়েছে, সেখানে ইন্টার কাশীর এই মরশুমে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা মাত্র একটি। তার উপর আবার এই মরশুমে এখনও পর্যন্ত একজনও বিদেশি ফুটবলার সই করাতে পারেনি ইন্টার কাশী। সম্পূর্ন ভারতীয় ব্রিগেড নিয়ে ইন্টার কাশী লড়াই করবে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে।
গত মরশুমে কলকাতায় কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে এই ইন্টার কাশীকেই ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য ইন্ডিয়ান সুপার লিগ ঘরে তুলেছে ইস্টবেঙ্গল। ফলে সেই ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ইস্টবেঙ্গলের কাছে একটা অন্যরকম অনুভূতি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এএফসির ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ইন্টার কাশী ম্যাচে প্রথম দলের সবাইকেই হাবাস শুরু থেকেই খেলাবেন কি না, যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ম্যাচের আগে হাবাস বলছিলেন, ‘‘ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে প্রথম দলে কয়েকটি পরিবর্তন করব, এটা হয়তো ঠিক। কিন্তু খুব বেশি পরিবর্তন করব না।’’
কিন্তু একবার আইএসএল। একবার এএফসি। এভাবে দু’টো ভিন্ন ধারার প্রতিযোগিতার জন্য দল তৈরি করতে সমস্যা হচ্ছে না? হাবাস বললেন, ‘‘যে দল ট্রফি জেতার লক্ষ্যে ছোটে, তাদের এই ব্যস্ত ক্রীড়াসূচি নিয়েই দৌড়তে হবে। সমস্যা একটাই। টানা খেলতে গিয়ে যেন কোনও ফুটবলার, চোট-আঘাতের কবলে না পড়ে। তাহলেই পরিকল্পনাতে সমস্যা হয়ে যায়। তবে আমাদের দলে বহু ফুটবলার রয়েছে, যারা ম্যাচে সুযোগ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।’’

চার্চিলের বিরুদ্ধে বদলি হিসাবে মাঠে নেমে ২ গোল করেছিলেন বিপিন সিং। শুক্রবার ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে বিপিন শুরু থেকে খেলবেন কি না, পরিষ্কার করে কিছু জানাননি হাবাস। আর বিপিন নিজেও গুরুত্ব দিতে চাইছেন না, কখন মাঠে নামবেন, তা নিয়ে। শুক্রবারের ম্যাচ প্রসঙ্গে এদিন বিপিন বলেন, ‘‘আমি মাঠে নেমে দলের কোনও কাজে লাগতে পারলাম কি না, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম একাদশে রইলাম, না কি বদলি হিসেবে মাঠে নামলাম, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’’
ঠিক হয়েছে, ইন্টার কাশী ম্যাচের পরই মুম্বই হয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-টু ম্যাচ খেলার জন্য ওমান উড়ে যাবে ইস্টবেঙ্গল। ওমানের আল-সিবের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবেন হাবাসের ফুটবলাররা। ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে খেলার জন্য রোহিত দানু পুণেতে না গেলেও, এই ম্যাচের পরই সোজা মুম্বই গিয়ে ওমানগামী ইস্টবেঙ্গল দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি।
আজ আইএসএলে
ইন্টার কাশী বনাম ইস্টবেঙ্গল
বিকেল ৫টা, পুণে
আইএসএল ইউটিউব চ্যানেলে
