বাড়ি জবরদখল করে রেখেছে ভাড়াটে। তুলে দিন প্লিজ। ভেবেছিলেন গুরুতর অসুখ করেছে। রোগীর মুখে এহেন আজব আবদার শুনে তাজ্জব ক্যানসার বিশেষজ্ঞ। ‘বিধায়ক-মন্ত্রী’ হয়ে রোগী দেখতে গিয়ে নাজেহাল বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ।
রোগীরা স্বীকার করছেন, “কী বলব আপনাকে, আদৌ কোনও অসুখ নেই। মিথ্যে বলেছি নাম লেখানোর সময়।” কেন এমন রোগী সাজার বাহানা? সাধারণত মন্ত্রীর দরবারে দেখা করতে গেলে লম্বা লাইন। অনেক প্রোটোকল মেনে ঢুকতে হয় মন্ত্রীর চেম্বারে। কিন্তু রোগী সেজে দেখা করলে সে ঝামেলা নেই। সরাসরি অনেক অন্তরঙ্গভাবে কথা বলা যায়। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছেন অনেকেই।
যিনি আদতে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ। বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ। ২০২৬ সালে তৃণমূলের রত্না চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর, ক্রীড়া দপ্তর, যুবকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সমানভাবে। বিধায়ক হয়েই চেম্বার করা ছেড়ে দেবেন? বিপাকে পড়তে পারেন অসংখ্য মানুষ। তাঁদের কথা ভেবেই হাজারো কাজ সামলে চেম্বার করতেন মন্ত্রী। কিন্তু তা করতে গিয়ে তিনি পড়েছেন মহা বিপাকে। যেমন? রক্তচাপ ঠিকঠাক। জ্বর নেই। হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক। সমস্ত টেস্টও নর্মাল! এমন রোগীই দশজনের মধ্যে সাতজন। তা হলে সমস্যাটা কোথায়? জিজ্ঞেস করতেই কাঁচুমাচু মুখে শেষমেশ রোগীরা স্বীকার করছেন, “কী বলব আপনাকে, আদৌ কোনও অসুখ নেই। মিথ্যে বলেছি নাম লেখানোর সময়।” কেন এমন রোগী সাজার বাহানা? সাধারণত মন্ত্রীর দরবারে দেখা করতে গেলে লম্বা লাইন। অনেক প্রোটোকল মেনে ঢুকতে হয় মন্ত্রীর চেম্বারে। কিন্তু রোগী সেজে দেখা করলে সে ঝামেলা নেই। সরাসরি অনেক অন্তরঙ্গভাবে কথা বলা যায়। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছেন অনেকেই। রোগীর ভেক ধরে তাঁরাই ঢুকে পড়ছেন চেম্বারে। কী শুনতে হয়েছে? “কী শুনতে হয়নি। আমি ভেবেছি গুরুতর অসুস্থ রোগী। এদিকে তিনি বলছেন বহু দিন আগে টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট বুক করে ফ্ল্যাট এখনও হাতে পাইনি। আপনি একটু ব্যবস্থা করে দিন। আমি তো থ।” জানিয়েছেন মন্ত্রী। মন্ত্রীর বক্তব্য, “দশজনের মধ্যে সাতজনই রোগী নন। নাম লিখিয়ে এসেছেন সমস্যার কথা বলতে।”
তবে তার পরেও রোগী দেখা সম্পূর্ণ বন্ধ করছেন না বিধায়ক-মন্ত্রী। ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা চটজলদি নয়। অনেকেই বিধায়ক হওয়ার আগে থেকে তাঁকে দেখাতেন। এখনও তাঁদের ফলোআপ চিকিৎসা চলছে ডা. ইন্দ্রনীল খাঁর কাছেই। তবে চেম্বার করতে গিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “সমস্যা বলার জন্য আলাদা অফিস রয়েছে। সেখানে আসুন। নিশ্চয়ই সমাধান করব। কিন্তু রোগী সেজে চেম্বারে ঢুকে পড়লে সত্যিই যাঁদের শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে তাঁরা আমার কাছে আসতে পারবেন না। এই বিষয়টা একটু ভেবে দেখবেন।”
