২০২২ সালের নভেম্বরে সৌদি আরব গিয়ে মক্কার হারাম শরিফে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ নিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওই যুবক।
Published : 19 Oct 2026, 09:34 PM
Updated : 19 Oct 2026, 09:34 PM
সৌদি আরবের মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মধ্যে একজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা। এখন ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মত দেখতে চান তারা।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২৫ বছর বয়সি যুবক দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। তার বাবা প্রায় ২৪ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। ২০২০ সালে দেশে ফিরে কৃষিকাজ শুরু করেন তিনি। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ২০২২ সালের নভেম্বরে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠান।
এ জন্য আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা ঋণ করেন তিনি। ছেলের পাঠানো টাকায় ঋণের কিছুটা শোধ হলেও এখনো সাড়ে চার লাখ টাকা বাকি রয়েছে বলে জানান।
এর আগে বুধবার সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানায়। ওই যুবকের সঙ্গে এক নারীও রয়েছেন।
ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়ে ওই যুবকের বাবা বলেন, “ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে ছয় লাখ টাকা ঋণ করেছিলাম। ছেলে প্রথম সাত-আট মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। এরপর তিন বছর ধরে জেলে ছিল। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে আমার বোনও মারা গেল। এখন শুধু ছেলের লাশটা একবার দেখতে চাই।”
পরিবারের সদস্যরা বলেন, সৌদি আরবে যাওয়ার পর মক্কার হারাম শরিফে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন ওই যুবক। দেশটিতে যাওয়ার আট মাসের মাথায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের প্রায় এক মাস পর পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। মাঝেমধ্যে বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগও পেতেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ১১ অক্টোবর তাদের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। সেদিন দুই থেকে আড়াই মিনিট কথা বলেছিলেন তিনি। এরপর বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সৌদি আরব থেকে এক ব্যক্তি ফোন করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানান।
ভাতিজার মৃত্যুর খবর শোনার পর ৬৫ বছরের এক ফুফু অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিন রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে জানান স্বজনরা।
ছেলেকে নির্দোষ দাবি করে ওই যুবকের মা বলেন, ছেলে মাসে একবার ফোন করতেন। তখন এক-দুই মিনিট কথা হত। ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি। শেষবারের মতো ছেলের লাশ দেখতে চান এই মা।
ওই যুবকের এক বন্ধু বলেন, তার বন্ধুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বভাবের সঙ্গে মেলে না। সে এমন কাজ করেছেন বলে বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে কাজ করবে।
