নানা শর্তের বেড়াজালে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনার ঋণে আগ্রহ কম অনেক উদ্যোক্তার। ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজে, পাঁচ মাসে বিতরণ হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বন্ধ শিল্প কারখানা ও সেবা খাতে ঋণ বিতরণ মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়াতে প্রয়োজনে ঋণের শর্ত শিথিল করা হবে।
অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে আর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে খুব একটা অগ্রগতি নেই প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণে। পাঁচ মাসে ১৫টি স্কিমের আওতায় এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যালোচনা বলছে, মোট বরাদ্দের ২০ শতাংশ অর্থ বিতরণ হয়েছে। যেখানে প্রি-শিপমেন্ট স্কিমে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ছাড় হলেও, ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষি স্কিমে ছাড় হয়েছে মাত্র ২৯৩ কোটি। বেকার যুবকদের ১ হাজার কোটি টাকা এখনো প্রক্রিয়াধীন। আর সবচেয়ে ধীরগতি ২০ হাজার কোটি টাকার বন্ধ শিল্প স্কিমে, যেখানে বিতরণ মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা। উদ্যোক্তারা বলছেন, কিছু শর্তের কারণে অনেকের আগ্রহ কম।
বিকেএমইএ–এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘যে ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়েছে, সেটি ক্লাসিফায়েড হওয়ার কারণে বন্ধ হয়েছে। আবার শিডিউল করে ক্লাসিফায়েড থেকে বের হতে হয়, ওইটা যদি পারতো তাহলে তো আগেই ফ্যাক্টরি চালু হতো।’
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ আছে অনেকের। জমা পড়া আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ ছাড় দেয়া প্রয়োজন।
অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার বলেন, ‘যদি ইন্ড্রাস্ট্রি বন্ধ হয়ে যায়, সেখানে তো টাকা ঢেলে লাভ নাই। চিন্তা করতে হবে সেটি বাঁচবে কি বাঁচবে না, সেগুলো চিন্তা ভাবনা করে সেটার একটা সময় লাগছে, অ্যাসেস করার জন্য তিন কিংবা ছয় মাস লাগতে পারে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছেন প্রণোদনার ঋণ বিতরণের সব ধরনের চেষ্টা করছেন। ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় নীতিমালা সংশোধন করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘সামনে বিতরণের কাজে আরও গতি সঞ্চার হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এইটাকে বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে।’
রাজনৈতিক প্রভাব এড়িয়ে প্রণোদনার ঋণ যাতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন , উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টিতে কাজে লাগে তা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
