পুজোর ভোজে লুচি-মাংস থেকে বিরিয়ানি, পোলাও, রকমারি মিষ্টি, বাদ যায় না কিছুই! কখনও বাড়ির নিমন্ত্রণ, কখনও রেস্তরাঁয় খাওয়াদাওয়া- উৎসবের মরশুমে রোজকার খাদ্যাভ্যাসে বদল আসাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আনন্দ করে খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ভারী ভাব দেখা দিতে পারে।
বেশি খেয়ে ফেলেছেন বলে পরদিন উপোস করা বা শরীরকে ‘ডিটক্স’ করার জন্য কড়া ডায়েট শুরু করারও প্রয়োজন নেই। বরং খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এনে হজমের অস্বস্তি কমানোর চেষ্টা করা যায়। রইল সহজ ৫ টোটকা।

১. মিষ্টি বেশি খেলে আপেল সিডার ভিনিগার
উৎসবে মিষ্টিমুখ একটু বেশিই হয়ে গিয়েছে? পুষ্টিবিদের পরামর্শ, ৩০০ মিলিলিটার জলে এক চা-চামচ আপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। খাবার আগে এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া কিছুটা কমতে পারে বলে কয়েকটি গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এর প্রভাব সীমিত। অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে না এই পানীয়। অম্বলের সমস্যা থাকলে বা শরীরে কোনও ক্রনিক ডিজিজ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খাবেন না।

২. ভাজাভুজির পর ইসবগুল
লুচি, কচুরি, সিঙাড়া বা তেলেভাজা বেশি খাওয়ার পর পেট ভার হয়ে থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ৩০০ মিলিলিটার জলে এক চা-চামচ ইসবগুল মিশিয়ে খেতে পারেন। ইসবগুলে থাকা ডায়েটরি ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য উপশমে সাহায্য করে। তবে এটি শরীরে চর্বি শোষণ বন্ধ করে দেয়, এমন প্রমাণ নেই। ইসবগুল খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি।

৩. বাইরের খাবার বেশি খেলে জোয়ান-জিরে-মৌরির জল
উৎসবের মরশুমে বাড়ির বদলে রেস্তরাঁর খাবারেই বেশি ভরসা? তেল-মশলাদার খাবার খাওয়ার পর গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অস্বস্তি কমাতে দিনে দু’বার ঈষদুষ্ণ জলে জোয়ান বা জিরে ও মৌরি ভেজানো জল পান করতে পারেন। তবে এই পানীয় শরীর থেকে অতিরিক্ত নুন বা চর্বি বের করে দেয় বা হজমের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে, এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

৪. ময়দার খাবার বেশি খেলে চিয়া সিড
লুচি, পরোটা, পিৎজা বা অন্যান্য ময়দার খাবার বেশি খেলে খাদ্যতালিকায় ফাইবারের ঘাটতি হতে পারে। সেই ঘাটতি পূরণে চিয়া সিড খেতে পারেন। এক গ্লাস জলে এক চা-চামচ চিয়া সিড রাতে ভালো করে ভিজিয়ে রেখে সকালে অথবা শোওয়ার আগে খাওয়া যেতে পারে। চিয়া সিডে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমম্যা থেকে রেহাই দেয়। তবে চিয়া সিড ভালো করে ভিজিয়ে তবেই খান।

৫. মদ্যপানের পর মেথি!
মদ্যপানের পর পেটের অস্বস্তি সামলাতে মেথি ভেজানো জল পান করতে পারেন। অন্তত চার ঘণ্টা জলে মেথি ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে সেই মেথি খাওয়া যেতে পারে। তবে মেথি মদ্যপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পাকস্থলীকে রক্ষা করে বা লিভারের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে, এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মদ্যপানের ক্ষতি এড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হল অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা।
উৎসবের পরেও চাই সুস্থতা
বেশি খাওয়াদাওয়া হয়ে গেলে পরদিন উপোস করা বা কঠোর ডায়েট মেনে চলার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিক সুষম খাবারে ফিরে যান। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। পর্যাপ্ত জল পান করুন, নিয়মিত হাঁটুন এবং শরীরকে বিশ্রাম দিন। মনে রাখবেন, কোনও পানীয় বা ঘরোয়া টোটকাই অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়ার সব প্রভাব মুছে দিতে পারে না। পেটের অস্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
