মা রজনী টুডু ও সুখি হেমব্রমের সঙ্গে ভৈরব ও বর্ষাEI Samay
Published on
:
2 min read
সঞ্জয় দে, দুর্গাপুর
জ্ঞান হওয়ার পর থেকে দুর্গাপুজোর সময়ে মা-বাবার হাত ধরে মণ্ডপে গিয়ে ঠাকুর দেখেছে ভৈরব ও বর্ষা। কিন্তু কখনও ঢাকের বাদ্যি ও কাঁসর, ঘণ্টার শব্দ শোনেনি তারা। কারণ, দু’জনেই জন্ম থেকে মূক ও বধির। তবে এ বারের শারদোৎসবে সম্পূর্ণ নতুন এক অনুভূতি জাগবে তাদের জীবনে। রবিবার দুর্গাপুরে ‘রোটারি ক্লাব অফ স্মার্ট সিটি’ সংস্থার সৌজন্যে ভৈরব ও বর্ষা পেল হিয়ারিং এড (শ্রবণযন্ত্র)। কানে সেই মেশিন বসাতেই ওদের ডাকলে সাড়া দিচ্ছে দুই খুদে, যা দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
কাঁকসা ব্লকের রঘুনাথপুরের কালাডাঙা গ্রামের বাসিন্দা চার বছরের ভৈরব টুডু এবং নয় বছরের বর্ষা হেমব্রম। যখন ওরা আরও ছোট তখন ওদের সাড়াশব্দ করতে না-দেখে ভৈরবের মা রজনী টুডু ও বর্ষার মা সুখি হেমব্রম গিয়েছিলেন ডাক্তারের কাছে। দুই শিশুকে পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ওদের কথা বলানোর চেষ্টা করাতে হবে। বড় হলে ধীরে ধীরে কথা বলবে। আর কানে শোনার জন্য মেশিন কিনতে বলেছিলেন। দিনমজুর পরিবারের সন্তান হওয়ায় অর্থাভাবে এতদিন শ্রবণযন্ত্র কেনা হয়নি। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী বর্ষার মা এ দিন বললেন, ‘আজ মেশিন পাওয়ার পরে কানে লাগাতেই ডাকলে সাড়া দিচ্ছে মেয়ে।’
রোটারি ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভৈরব ও বর্ষার কথা জানিয়েছিলেন দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের কর্মী তথা সমাজসেবী হারাধান ভট্টাচার্য। তাদের হিয়ারিং এড দিতে রাজি হয় রোটারি ক্লাব। হারাধান ভট্টাচার্য বলেন, ‘যে সংস্থা থেকে হিয়ারিং এড নেওয়া হয়েছে তাদের চিকিৎসকরা দুই শিশুর নানারকম পরীক্ষা করে কানের মেশিন নেওয়ারই পরামর্শ দেন।’
রবিবার দুর্গাপুরের এক হোটেলে ভৈরব ও বর্ষার হাতে এই শ্রবণযন্ত্র তুলে দেন রোটারির গভর্নর অসীমকান্তি অধিকারী। ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারম্যান সুবীর রায় বলেন, ‘ওই দুই খুদে এ বার যে কানে শুনতে পাবে, এর চেয়ে খুশির আর কিছু হতে পারে না।’ এ দিন কমলপুরে আদিবাসী সম্প্রদায়ের কচিকাঁচাদের হাতে রোটারির পক্ষ থেকে পুজোর নতুন জামাকাপড়ও তুলে দেওয়া হয়।
জন্মের পর পরই নবজাতকের শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করার প্রসঙ্গে রোটারির সদস্য তথা ডিএসপি মেন হাসপাতালের প্রাক্তন ডিরেক্টর রিন্টু গুহ নিয়োগী বলেন, ‘অটো অ্যাকোয়াস্টিক এমিশন মেশিন দিয়ে সব নবজাতকের স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন। বিষয়টা গায়নেকোলজিস্টরা জানেন। কিন্তু কেউ করেন না। সদ্যোজাতদের হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ করার সময়ে নিওনেটাল হিয়ারিং স্ক্রিনিং করা উচিত।’