Published on
:
2 min read
এই বাংলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে নানারকম পুজোর কাহিনি। কোথাও বহু পুরোনো কাঠামোয় পুজোর আয়োজন আবার কোথাও শতাব্দী প্রাচীন রীতিনীতি মেনে পুজোর চল রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে হয় তেমনই এক পুজো। আউশগ্রামের ধনকুড়া অঞ্চলের ভট্টাচার্য বাড়িতে ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হচ্ছে দুর্গাপুজো। মাটির প্রতিমা নয়। বাড়ির অষ্টধাতুর বিগ্রহতে হয় পুজো। তবে, এই পুজোর সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসও জড়িয়ে আছে বলে জানা যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, প্রায় ৩০০ বছর আগে এই বাড়িরই এক সদস্য খুঁজে পান ওই অষ্টধাতুর মূর্তি। তখন থেকেই শুরু হয় পুজো। প্রাচীন এই পুজোর সমস্ত আচার এবং নিয়ম তালপাতার পুঁথিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে। সেই নিয়ম মেনেই এখনও পুজো হচ্ছে ভট্টাচার্য বাড়িতে। এই পুজোয় আলাদা করে প্রতিমা তৈরি করা হয় না। অষ্টধাতুর ওই মূর্তিতেই পুজো চলে।
বাড়ির বর্তমান সদস্য ভুবনেশ্বর ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পুজো প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরাই পুজো করি। বর্তমানে আমি আর আমার জ্যাঠামশাইয়ের ছেলে এই পুজো করি।’ আগে বলিপ্রথাও চালু ছিল। ভুবনেশ্বর বলেন, ‘সপ্তমীতে চালকুমড়ো এবং অষ্টমী ও নবমীতে ছাগবলি দেওয়ার প্রথা ছিল। তবে, কোভিডের পরে ২০২০ সাল থেকে বলিপ্রথা বন্ধ করে দেওয়া হয়।’
পুজোর রীতিতেও রয়েছে বৈচিত্র। ভুবনেশ্বর জানান, গ্রামে মোট ৭টি পুজো হয়। সপ্তমীর সকালে সব পুজোর নবপত্রিকা গ্রামের পুকুরে এক সঙ্গে স্নান করানো হয়। দশমীর দিনেও সবক’টি পুজোর নবপত্রিকা এক সঙ্গে দোলায় করে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়।
পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসও। কথিত আছে, ইংরেজ আমলে এই এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছিল। সে সময়ে বিপ্লবীদের গোপন আস্তানা ছিল এই জঙ্গলে। পুজোর সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যোগ ছিল বলেও দাবি স্থানীয়দের।
