যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ ১৬ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৩ মিনিটের দিকে কারখানাটিতে উৎপাদন শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট মাস গ্যাসসংকটের কারণে বন্ধ থাকার পর গ্যাস সংযোগ পেয়ে গত ৬ অক্টোবর গভীর রাতে যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে উৎপাদন শুরুর পরদিন ৭ অক্টোবর রাতে কারখানার বয়লার প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দিলে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে শুক্রবার সকালে সেই ত্রুটি সমাধান করা হলে কারখানাটিতে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়।
এ বিষয়ে কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত ৭ অক্টোবর রাতে কারখানার বয়লার প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই সমস্যা সমাধান হওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকে কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন কেপিআই-১ মানসম্পন্ন যমুনা সার কারখানাটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কারখানাটিতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে দৈনিক ৪২ থেকে ৪৫ পিএসআই গ্যাসচাপ প্রয়োজন হয়।
তবে গ্যাসের চাপস্বল্পতা ও বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটির কারণে কারখানাটির উৎপাদন কমে দৈনিক ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টনে নেমে আসে। এসব সংকটের কারণে একাধিকবার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
উৎপাদন চালু থাকা অবস্থায় যমুনা সার কারখানা উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলাসহ জামালপুর, শেরপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় সার সরবরাহ করে থাকে। এসব এলাকায় কারখানাটির ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে ইউরিয়া সার পৌঁছে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কারখানাটিতে উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় সার সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
