Published on
:
3 min read
অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (ইপিএফও)-র নিয়মে বড় বদল আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অবসরের সময় কর্মীদের এককালীন প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ আগের তুলনায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকা কমে যাবে। তবে চিন্তার কারণ নেই। ক্ষতিপূরণ হিসেবে অবসর গ্রহণের পর (৫৮ বছর বয়স থেকে) কর্মীরা আজীবন প্রতি মাসে প্রায় ৯,৬০০ টাকা করে পেনশন পাবেন।
সম্প্রতি সরকার পিএফ কভারেজের আওতায় আসার জন্য মাসিক বেতনের ঊর্ধ্বসীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করেছে। ফলে যে সমস্ত কর্মীর মূল বেতন (বেসিক স্যালারি) ২৫,০০০ টাকা, তাঁদের ক্ষেত্রে কোম্পানির প্রদত্ত অর্থের একটা বড় অংশ এখন সাধারণ পিএফ অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে সরাসরি এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিমে (ইপিএস) জমা হবে। এই কারণেই অবসরের সময় একলপ্তে থোক টাকার পরিমাণ কমবে এবং তার বদলে আজীবন মাসিক পেনশন পাওয়া যাবে।
চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ইপিএফও স্পষ্ট জানিয়েছে, এই বিষয়টি সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। কোনও কর্মী চাইলেও এই নিয়ম থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। মূলত যাঁদের বার্ষিক বেতন ৬ লক্ষ টাকার আশপাশে বা তার কম, তাঁরাই এর ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের পরে চাকরিতে যোগ দেওয়া যে কর্মীদের মাসিক মূল বেতন ১৫,০০১ থেকে ২৫,০০০ টাকা, তাঁদের মধ্যে যাঁরা এত দিন পেনশন স্কিমের বাইরে ছিলেন, তাঁরাও নতুন নিয়মের অন্তর্ভুক্ত হলেন।
নতুন নিয়মে পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম ১০ বছর চাকরি করা বাধ্যতামূলক। তবে, যদি কোনও কর্মী ২৫ বছর চাকরি করেন, তবে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করার জন্য তাঁকে ২ বছরের ‘বোনাস’ দেওয়া হবে। এর ফলে তাঁর মোট চাকরির সময়কাল ধরা হবে ২৭ বছর। এই হিসেবের ভিত্তিতেই তিনি প্রতি মাসে প্রায় ৯,৬৪৩ টাকা পেনশন পাবেন।
শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মীই নন, তাঁর অবর্তমানে পরিবারের আর্থিক সুরক্ষার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। কোনও কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর স্বামী বা স্ত্রী আজীবন এই পেনশনের টাকা পাবেন। পাশাপাশি, ওই কর্মীর সর্বাধিক দুই সন্তান ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশনের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
পাশাপাশিই রয়েছে জীবন বিমার সুবিধা। পিএফ অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের কোম্পানি থেকে বিনামূল্যে জীবন বিমা বা ‘ইডিএলআই’ দেওয়া হয়। চাকরিরত অবস্থায় কোনও কর্মীর মৃত্যু হলে, তাঁর পরিবার ২.৫ লক্ষ থেকে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য বা বিমা দাবি করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে কোম্পানি প্রদত্ত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ আর একলপ্তে তোলা যাবে না বা অন্য কোথাও বিনিয়োগ করা যাবে না। বৃদ্ধ বয়সে কারও উপরে নির্ভর না করে প্রতি মাসে একটি নিশ্চিত আয়ের সংস্থান করতেই সরকারের এই পদক্ষেপ।
১. পিএফ (PF)-এর নিয়মে নতুন কী বদল এসেছে?
আগে পিএফ-এর হিসেব হতো সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা মূল বেতনের উপরে। এখন সরকার সেই সীমা বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করেছে। ফলে কোম্পানির দেওয়া টাকার একটা বড় অংশ এখন সাধারণ পিএফ অ্যাকাউন্টের বদলে সরাসরি পেনশন ফান্ডে জমা হবে।
২. এর ফলে রিটায়ারমেন্টের সময় আমার হাতে পাওয়া টাকায় কী প্রভাব পড়বে?
রিটায়ারমেন্টের সময় আপনি এককালীন যে থোক টাকা পেতেন, সেটা আগের চেয়ে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা কমে যাবে। তবে এর বদলে আপনি ৫৮ বছর বয়সের পর থেকে আজীবন প্রতি মাসে প্রায় ৯,৬০০ টাকা করে নিশ্চিত পেনশন পাবেন।
৩. আমি যদি চাই পুরো টাকাটাই এককালীন নেব, পেনশন চাই না— সেটা কি সম্ভব?
না, সেটা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। এই নিয়মটি সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। আপনি চাইলেও এই নিয়ম থেকে বেরিয়ে আসতে বা ‘না’ বলতে পারবেন না।
৪. নতুন এই নিয়মে কারা পড়বেন?
যাঁদের বার্ষিক স্যালারি প্যাকেজ ৬ লক্ষ টাকার আশপাশে এবং মাসিক মূল বেতন ১৫,০০১ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে, তাঁরাই এর আওতায় পড়বেন। বিশেষ করে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের পরে যাঁরা চাকরিতে যোগ দিয়েছেন এবং আগে পেনশন স্কিমের বাইরে ছিলেন, তাঁরাও নিয়মের অন্তর্ভুক্ত হলেন।
৫. পেনশন পাওয়ার জন্য কত দিন চাকরি করতে হবে?
পেনশন পেতে হলে আপনাকে অন্তত ১০ বছর চাকরি করতে হবে। আর যদি আপনি ২৫ বছর চাকরি করেন, তবে নিয়ম বলছে, ২ বছরের অতিরিক্ত বোনাস ধরে মোট ২৭ বছরের হিসেব অনুযায়ী আপনি পেনশন পাবেন।
৬. সংশ্লিষ্ট কর্মীর মৃত্যু হলে এই পেনশনের কী হবে?
কোনও কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর স্বামী বা স্ত্রী বাকি জীবন ওই পেনশনের পুরো সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া, ওই কর্মীর সর্বোচ্চ দুই সন্তানও ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত এই পেনশনের টাকা পাবেন।
৭. এর সঙ্গে কি কোনও জীবন বিমার সুবিধাও পাওয়া যায়?
হ্যাঁ। পিএফ অ্যাকাউন্ট থাকলে কোম্পানি থেকে বিনামূল্যে জীবন বিমা বা ‘ইডিএলআই’ দেওয়া হয়। চাকরিরত অবস্থায় কোনও কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবার ২.৫ লক্ষ থেকে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য বা বিমা দাবি পেতে পারে। এর জন্য কর্মীকে নিজের পকেট থেকে কোনও টাকা দিতে হয় না।