চার কোটি টাকা ব্যয়ে লাঘাটা নদীর ওপর নির্মিত সেতু। ছবি: সংগৃহীত
প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর দুই প্রান্তে নেই সংযোগ সড়ক। ফলে পণ্য পরিবহন কিংবা অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো জরুরি কাজেও সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। এ অবস্থায় সেতু নির্মাণের পরও নদী পারাপারে তাদের ভরসা হয়ে ওঠেছে ডিঙি নৌকা ও নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকায় লাঘাটা নদীর ওপর ২০২০ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২১ সালের নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে কয়েক বছর পার হলেও সেতুটি চালু করা যায়নি। তবে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হলে শিগগিরই সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কামারচাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-ধলাই খেয়াঘাট সড়কের আওতায় লাঘাটা নদীর ওপর ৬০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২০ সালের ৬ জুলাই শুরু হওয়া এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৪ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৪৯ টাকা। প্রকল্পটির ঠিকাদারি পায় ‘প্রিন্স মামুন (জেভি)’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে প্রয়োজনীয় মাটি সংগ্রহ করতে না পারায় সংযোগ সড়কের কাজ দীর্ঘদিন আটকে ছিল। এ ছাড়া জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও আইনি জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় বিদ্যমান জমিতেই সংযোগ সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ওপর সেতুর মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় যাতায়াত নেই। ফলে সেতুতে ওঠার পথ না থাকায় স্থানীয় লোকজনকে নৌকা ও বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে।
সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী থাকায় উপেজেলার দক্ষিণ ইসলামপুর, খাস প্রেমনগর, মিটিপুর, ভোলানগর, শ্যামেরকোনা, নওয়াগাঁও, আলালপুর, হাটিকরাইয়া, গোবিন্দপুর ও কালইকুনাসহ আশপাশের অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, প্রবীণ ব্যক্তি ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে চালু হয়নি। তাছাড়া সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে না।
তারা জানান, যাতায়াত দুর্ভোগে জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া এবং ব্যবসার মালামাল পরিবহনে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এ অবস্থায় দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চালুর দাবি জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মুজিব মিয়া বলেন, সেতুটি চালুর আশায় ছিলাম, কিন্তু কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও আমাদের দুঃখ ঘুচল না। বর্ষাকালে নৌকা আর সাঁকোই আমাদের একমাত্র ভরসা।’
নির্মাণকাজের ধীরগতির বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রিন্স মামুন (জেভি)’-এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল গনি বলেন, মূল সেতুর কাজ প্রায় শেষ। তবে বর্ষার কারণে মাটি সংগ্রহ করতে না পারায় সংযোগ সড়কের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ নিয়েও কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। এ কারণে বর্তমান অবস্থায় সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচের কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঠিকাদার পটুয়াখালীর বাসিন্দা হওয়ায় দু-এক দিনের মধ্যে এলাকায় আসবেন। চলতি সপ্তাহে সম্ভব না হলেও আগামী সপ্তাহের মধ্যে সংযোগ সড়কের মাটির কাজ পুরোদমে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
