নিজের ও পরিবারের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন—এমন একজন ব্যক্তির ক্ষতিতেও আনন্দিত হতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ফেসবুকে দেওয়া তার একটি পোস্ট ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাত ১১টা ২২ মিনিটে দেওয়া পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘আমার এবং আমার পরিবারের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন এমন একজন ব্যক্তি—এমন সব উপায়ে ক্ষতি করেছেন, যা হয়তো ভাষায় প্রকাশ করার মতোও নয়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘তবুও, তার জায়গায় নিজেকে রেখে যখন ভাবি, তখন তার ক্ষতিতেও উল্লাস বা আনন্দ অনুভব করতে পারি না। এমন মানুষদের সঙ্গেও যেন অন্যায় না হয়। তারাও ন্যায়বিচার পাক।’
আসিফ মাহমুদের পোস্টে ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে পোস্টের মন্তব্যে অনেকে সদ্য পদত্যাগ করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে করছেন।
আমিনুর ইসলাম স্বপন নামে একজন লিখেছেন, ‘মনে হয় ইশরাকের উদ্দেশ্যে কথাটা ছিল।’ মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা লিখেছেন, ‘জনাব ইশরাক হোসেনকে উদ্দেশ্য করে বলা!’
আবার অনেকেই মন্তব্যের ঘরে ইশরাকের হোসেনের পেজকে মেনশন করছেন। অবশ্য পোস্টটি কাকে উদ্দেশ করে দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি এনসিপির মুখপাত্র।
এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের অংশ নেওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েকজনকে ধরতে নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীদেরও কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। ভিডিওতে একজনকে গুলি করার হুমকি দিতে শোনা যায়। এ ছাড়া এক দেহরক্ষীকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশের পর একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে নিয়ে কাউকে আটক করতে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ভিডিওটি ইশরাকের ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
