মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বুধবার দুপুরে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় এবং এই সময় তার মাথা থেকে একটি ছোট আকারের গুলি উদ্ধার করা হয়।
মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. কৃষ্ণ দাস বিশ্বাস জানান, দুপুর দেড়টার দিকে ময়নাতদন্তের সময় সাকের হোসেনের মাথা থেকে একটি গুলি বের করা হয়েছে। এটি পিস্তল বা রিভলভিয়ার জাতীয় কোনো আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফরেনসিক রিপোর্টের পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এর আগে স্থানীয়রা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারের ভেতরে তাকে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় চিকিৎসকরা তার মাথার পেছনে একটি আঘাতের ও ছিদ্রের চিহ্ন দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।
নিহত সাকের হোসেন মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি মাগুরা পৌর যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার পাশাপাশি ওই বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার বড় ভাই ঠিকাদার রাজমীর হোসেন দাবি করেন, তার ভাইকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি হত্যাকাের সুনির্দিষ্ট কারণ বা জড়িতদের নাম জানাতে পারেননি।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা তাৎক্ষণিকভাবে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরবর্তীতে বাস টার্মিনালে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, ময়নাতদন্তে যুবদল নেতার মাথায় গুলি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রযুক্তিগত ও প্রচলিত উভয় পদ্ধতিতে জোরালো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। খুব শীঘ্রই এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে দৃশ্যমান অগ্রগতি জানানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। দ্রুত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।
