কথা হয় প্রতিদিন। ব্যক্তিগত অনুভূতি ভাগাভাগি হয়, একসঙ্গে সময় কাটাতেও ভালো লাগে। একজনের মন খারাপ অন্যজনকেও ছুঁয়ে যায়। কিন্তু সম্পর্কটা কী? উত্তর নেই কারো কাছে। প্রেমের দিকে এগোবেন, নাকি বন্ধুত্বেই থাকবেন, সেই সিদ্ধান্তও ঝুলে আছে। সম্পর্কের এই ‘হ্যাঁ-না’র মাঝামাঝি অবস্থাকে বলা হচ্ছে ‘মেবিলেশনশিপ’ (Maybélationship)।
কেন তৈরি হয় এমন সম্পর্ক?
কাউকে ভালো লাগলেই যে সম্পর্কে জড়ানোর প্রস্তুতি থাকবে, এমন নয়। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাউকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে। অতীতের সম্পর্কে কষ্ট পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেও নতুন করে কাউকে বিশ্বাস করতে সময় লাগতে পারে।
আবার দুজনের চাওয়াও আলাদা হতে পারে। একজন সম্পর্কটিকে নির্দিষ্ট পরিচয় দিতে চান, অন্যজন আরও সময় নিয়ে বুঝতে চান। কখনো একজন ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ধরে অপেক্ষা করেন, অথচ অন্যজন সম্পর্কটিকে সেভাবে দেখেন না। এভাবে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়াই চলতে থাকে সম্পর্ক।
শুধু জেন-জিরা নয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্কের ধরন নিয়ে আলোচনা বাড়ায় মেবিলেশনশিপের মতো শব্দও পরিচিতি পাচ্ছে। তরুণদের মধ্যে বিষয়টি বেশি আলোচিত হলেও এমন অভিজ্ঞতা কোনো নির্দিষ্ট প্রজন্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ সম্পর্ক নিয়ে দ্বিধায় পড়তে পারেন। কোন বয়সের মানুষ এ ধরনের সম্পর্কে বেশি জড়ান, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।
সিচুয়েশনশিপের সঙ্গে পার্থক্য কী?
মেবিলেশনশিপের সঙ্গে ‘সিচুয়েশনশিপ’ (Situationship) শব্দটির মিল রয়েছে। সিচুয়েশনশিপে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও সম্পর্কের পরিচয় ও প্রতিশ্রুতি অস্পষ্ট থাকে। অন্যদিকে মেবিলেশনশিপে সম্পর্কটি ভবিষ্যতে প্রেমে রূপ নিতে পারে, এমন সম্ভাবনা থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না।
‘এখন নয়, পরে দেখা যাবে’ কিংবা ‘আরও কিছুদিন সময় দাও’, এমন অবস্থায় সম্পর্ক আটকে থাকতে পারে। তবে দুটি ধারণার সীমারেখা সব সময় স্পষ্ট নয়। একই সম্পর্কে দুটির বৈশিষ্ট্যই থাকতে পারে।
অপেক্ষারও সীমা আছে
সম্পর্কের সিদ্ধান্ত নিতে সময় চাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু একজন যখন স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চান, অন্যজন যদি বারবার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেন, তখন অনিশ্চয়তা মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তি বুঝতে পারেন না, সম্পর্কটির ভবিষ্যৎ আছে, নাকি তিনি শুধু সম্ভাবনার ওপর নির্ভর করছেন।
এ ক্ষেত্রে খোলামেলা আলোচনা জরুরি। দুজনের প্রত্যাশা কী, সম্পর্কটিকে এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা আছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। কেউ সম্পর্কে জড়াতে প্রস্তুত না থাকলে তাঁকে চাপ দেওয়া যায় না। একইভাবে নিজের অনুভূতি উপেক্ষা করে অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করাও সমাধান নয়।
ভালো লাগা সম্পর্কের শুরু হতে পারে, কিন্তু সম্পর্ককে পরিণতি দিতে দুজনের ইচ্ছা ও প্রস্তুতি প্রয়োজন। তাই প্রশ্ন শুধু প্রেম হবে কি না, তা নয়; দুজন কি আদৌ একই ধরনের সম্পর্ক চান?
The post প্রেম নয়, বন্ধুত্বও নয়, তাহলে কী? appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
