টুপটুপ রিসোর্টের আগুনে নিহতদের দু’জন ঢাবি ও জবি শিক্ষার্থী
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী রয়েছেন। তারা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা। এ ঘটনায় নাবিলার তিন বোন, এক ভাগনে ও এক ভাইও নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। এ ঘটনায় ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় জানা গেছে।
নাফিস তেহামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এক শোকবার্তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, নাফিস তেহামীসহ তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখের ও বেদনার। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত।
নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে উপাচার্য অগ্নিকাণ্ডের কারণ চিহ্নিত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাফিস তেহামীর বাড়ি বরগুনার আমতলী থানার দক্ষিণ চুনাখালী গ্রামে।
অন্যদিকে, লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন। শোকবার্তায় তারা নাবিলার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এ অগ্নিকাণ্ডে নাবিলার তিন বোন ফারিয়া কবির (৩৩), ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩) নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া নিহত ফাইজান নূর (৫) নাবিলার বড় বোন ফারিয়ার ছেলে এবং নাসির উদ্দিন (২৫) তার ভাই। তারা সবাই ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দুটি তলায় অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর ফায়ার সার্ভিস রিসোর্টটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করেছিল।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
