বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাসে শাসন করার জেরে শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে বাধ্যতামূলক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সামনে শিক্ষককে পেটায় ওই শিক্ষার্থী। আহত শিক্ষকের নাম রায়হান ইসলাম, তিনি বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক।
জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্কুল ছুটির পর শিক্ষক রায়হান ইসলাম মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে এপিবিএনের সামনে আগে থেকেই গাছের ডাল হাতে দাঁড়িয়ে ছিল অভিযুক্ত শিক্ষার্থী। শিক্ষক সেখানে পৌঁছালে তাকে থামতে বলে সে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাছের ডাল দিয়ে শিক্ষকের মুখ ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ওই শিক্ষার্থী পালিয়ে যায়। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও আহত করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান সেখানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন।
শারীরিক শিক্ষা বিভাগের আরেক শিক্ষক আবু সাদাত মো. মোস্তফা কামাল বলেন, সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রকে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আচরণগত বিষয়ে সাময়িক বহিষ্কার (পাঠদান থেকে বিরত) করে রাখা হয়েছিল। সে গত বছর চূড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে সপ্তম শ্রেণিতে দ্বিতীয়বার অধ্যয়নরত ছিল। গত সোমবার সে স্থগিতাদেশ কাটিয়ে প্রথম দিন শ্রেণিকক্ষে আসে। ক্লাসের পরিবেশ বিঘ্ন ঘটানোয় তার নাম বোর্ডে ছিল এবং ক্লাস ক্যাপ্টেনের মাধ্যমে শিক্ষক রায়হান বিষয়টি জেনে তাকে শাসন করে।
বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ শফিকা আক্তার বলেন, ‘শিক্ষকের ওপর এই নির্মম হামলায় শিক্ষক সমাজ আতঙ্কিত। শুধু রায়হান স্যারের ওপর নয়, এই হামলা শিক্ষক সমাজের ওপর। আমরা শিক্ষার্থীদের জীবন মান উন্নয়নে শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কখনও শাসন করি, কিন্তু এই ঘটনায় আমরা নিরাপদ বোধ করছি না।’
অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিশ বছরের বিয়ামের ইতিহাসে এমন দুঃখজনক ঘটনা কখনো ঘটেনি। যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সবসময় শিক্ষকদের শ্রদ্ধা করেছে, সেখানে শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার ঘটনা অত্যন্ত ব্যথিত করার মতো। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান থেকে বাধ্যতামূলক বহিষ্কার করা হয়েছে।’
