আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা ও নৌসেনার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে থিয়েটার কমান্ড গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং।
তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, থিয়েটারাইজেশনের নামে যুদ্ধবিমানগুলিকে স্থায়ীভাবে ভৌগোলিক অঞ্চলের ভিত্তিতে ভাগ করে দেওয়া উচিত নয়। বরং ভারতের নিজস্ব নিরাপত্তার প্রয়োজন, ভৌগোলিক পরিস্থিতি এবং সামরিক কৌশলকে মাথায় রেখেই এই কাঠামো তৈরি করতে হবে।
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিদেশের মডেল হুবহু অনুকরণ করার পক্ষে নন তিনি। রবিবার সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই কথা জানিয়েছেন বায়ুসেনা প্রধান।
তাঁর মতে, থিয়েটার কমান্ডের মূল নীতি হওয়া উচিত, যেখানে প্রয়োজন, সেখানে নিয়ন্ত্রণ করা। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, এত বড় সামরিক সংস্কার ধাপে ধাপে কার্যকর করতে হবে, যাতে কোনও পরিস্থিতিতেই দেশের সামরিক প্রস্তুতি ও যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ঘোষিত থিয়েটারাইজেশন পরিকল্পনাকে স্বাধীনতার পর ভারতের অন্যতম বড় সামরিক সংস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হল ভারতীয় সেনা, বায়ুসেনা ও নৌসেনার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং যুদ্ধ বা সামরিক অভিযানের সময় তিন বাহিনীর সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় তিনটি থিয়েটার কমান্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। লখনউয়ে উত্তর থিয়েটার কমান্ডের মূল লক্ষ্য চিনের দিক থেকে আসা হুমকির মোকাবিলা করা। জয়পুরে পশ্চিম থিয়েটার কমান্ডের দায়িত্বে পাকিস্তান সীমান্তের নিরাপত্তা।
অন্যদিকে, তিরুবনন্তপুরমে সামুদ্রিক অঞ্চলে থিয়েটার কমান্ড গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। তবে তিন বাহিনীর মধ্যে প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে পরিকল্পনার অগ্রগতি থমকে রয়েছে।
বিশেষ করে, প্রস্তাবিত কমান্ডগুলির মধ্যে বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন ভাগ করে দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে এসেছে বায়ুসেনা। এপি সিংয়ের বক্তব্য, বর্তমান সংঘাত চলাকালীন যুদ্ধবিমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফলে, বিমানবাহিনীকে কীভাবে সংগঠিত করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে যুদ্ধবিমানগুলিকে স্থায়ীভাবে ভৌগোলিক ভিত্তিতে ভাগ করতে চাইছে এয়ার ফোর্স। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে অপারেশন সিঁদুরের উদাহরণ তুলে ধরেন বায়ুসেনা প্রধান।
এপি সিংয়ের বক্তব্য, যুদ্ধবিমানের অন্যতম শক্তি হল দ্রুত গতিতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছনোর ক্ষমতা, দীর্ঘ দূরত্বে অভিযান চালানো, উপযুক্ত ঘাঁটির সাহায্যে অনেক দূর থেকেও বিমানশক্তিকে নির্দিষ্ট এলাকায় কাজে লাগানো সম্ভব।
তাঁর মতে, বিমানের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত রাখার প্রয়োজন হলেও, মাটিতে থাকা কমান্ডারদের পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাও দিতে হবে। তাতে যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে দ্রুত বিমানগুলিকে ব্যবহার করা সম্ভব।
তাঁর মতে, আগামী দিনের সংঘাত আরও দ্রুতগতির হবে এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। তিনি জানিয়েছেন, আরও বলেন, এত বড় পরিবর্তন একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে এগোনো প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা ও নৌসেনার নিজস্ব কমান্ড রয়েছে। থিয়েটারাইজেশন কার্যকর হলে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রতিটি থিয়েটার কমান্ডের অধীনে তিন বাহিনীর ইউনিট থাকবে।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=0GDpsiHmMVIRWgro
ফলে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে তিন বাহিনী সমন্বিত ভাবে কাজ করতে পারবে। প্রাক্তন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান এই পরিকল্পনা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে জমা দিয়েছিলেন। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সেই প্রস্তাব অনুযায়ী এগোচ্ছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
