Published on
:
2 min read
অল্প অল্প করে নিয়মিত বিনিয়োগ করেও দীর্ঘমেয়াদে বড় অঙ্কের টাকা জমাতে পারেন। মিউচুয়াল ফান্ডে মাসে ১৫,০০০ টাকা করে ১৫ বছর বিনিয়োগ এবং বছরে গড়ে ১৫ শতাংশ রিটার্নের হিসাব ধরলে, বিনিয়োগের মোট মূল্য ১ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। বিনিয়োগের এই হিসাবকেই বলা হয় ১৫-১৫-১৫ রুল। তবে মনে রাখতে হবে, এটি একটি আনুমানিক হিসাব। এই হারে রিটার্ন পাওয়া নিশ্চিত নয়।
কী এই ১৫-১৫-১৫ রুল?
এই নিয়মে তিনটি বিষয় রয়েছে— প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা বিনিয়োগ, টানা ১৫ বছর বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া এবং বছরে গড়ে ১৫ শতাংশ রিটার্নের লক্ষ্য ধরা। এর জন্য মিউচুয়াল ফান্ডে সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (SIP) ব্যবহার করা যায়। SIP-তে নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করা হয়।
কী ভাবে ১ কোটি টাকা জমতে পারে?
ধরা যাক, কোনও ব্যক্তি প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা করে ১৫ বছর বিনিয়োগ করলেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর নিজের পকেট থেকে মোট বিনিয়োগ হবে ২৭ লক্ষ টাকা। বছরে ১৫ শতাংশ রিটার্ন ধরে এবং চক্রবৃদ্ধি হারে হিসাব করলে, ১৫ বছর শেষে মোট বিনিয়োগের মূল্য প্রায় ১ কোটি ১ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা হতে পারে। অর্থাৎ আনুমানিক লাভ প্রায় ৭৪ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চক্রবৃদ্ধি বা Compounding। বিনিয়োগের উপর পাওয়া রিটার্নও যখন পরবর্তী সময়ে আরও রিটার্ন তৈরিতে সাহায্য করে, তখন দীর্ঘমেয়াদে টাকার অঙ্ক দ্রুত বাড়তে পারে।
তবে ঝুঁকির কথাও মাথায় রাখতে হবে
মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন বাজারের ওঠানামার উপর নির্ভর করে। প্রতি বছর ১৫ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যায় না, আবার ভবিষ্যতেও এই রিটার্ন বজায় থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রকৃত রিটার্ন কম হলে ১৫ বছর শেষে জমা টাকার পরিমাণও কম হতে পারে। তাই নিজের আর্থিক লক্ষ্য, বিনিয়োগের সময়সীমা ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে যোগ্য আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
