সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শনীতে শিল্পীEi Samay
Published on
:
2 min read
দিগন্ত মান্না
২০২৪–এ আরজি কর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার এক মাস পরে ‘ক্রাই অফ দ্য আওয়ার’ নামে একটি মূর্তি বসানো হয় হাসপাতাল ক্যাম্পাসেই। সেই মূর্তিটি তৈরি করেন পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদার শিল্পী অসিত সাঁই। এ বার সেই ভাস্কর্যের একটি ব্রোঞ্জ প্রতিরূপ যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইউনিভার্সিটি আর্টওয়ার্কস গ্রুপ’ প্রদর্শনের জন্য গ্রহণ করল। বিশ্ববিদ্যালয়ের হেরিটেজ কালেকশন এবং মাস অবজার্ভেশন আর্কাইভের প্রধান কেভিন বেকন গত বৃহস্পতিবার অসিতকে চিঠি লিখে সে কথা জানিয়েছেন। বাংলা ছাড়িয়ে এই ভাস্কর্য বিদেশে স্থান পাওয়ার খুশি শিল্পী।
গ্লোবাল এমপ্যাথি কমিউনিটি গত মাসে সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সম্মেলনে অসিতকে আমন্ত্রণ জানায়। সেখানে অসিত তাঁর ২০টি চিত্রকর্ম এবং ‘ক্রাই অফ দ্য আওয়ার’ ভাস্কর্যটি প্রদর্শন করেন। কোন পরিপ্রেক্ষিতে শিল্পী ওই মূর্তি গড়েছিলেন সম্মেলনে তা–ও জানান শিল্পী। তাঁর দাবি, ১৮ ইঞ্চি লম্বা ও ১২ কেজি ওজনের ওই ভাস্কর্যে আরজি করের নিহত মহিলা চিকিৎসকের মৃত্যুযন্ত্রণা ও আতঙ্ক তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন। চিঠিতে কেভিন অসিতকে লিখেছেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ইউনিভার্সিটি আর্টওয়ার্কস গ্রুপ ‘ক্রাই অফ দ্য আওয়ার’ ভাস্কর্যটি প্রদর্শনের জন্য গ্রহণ করেছে।’ গত বছর ভার্চুয়াল স্কুল অস্ট্রেলিয়া এবং গ্লোবাল এমপ্যাথি কনফারেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পারমিতা রায় ‘ক্রাই অফ দ্য আওয়ার’ নামে একটি নাটক লিখেছিলেন যা অ্যাডিলেডে মঞ্চস্থ হয়েছিল। ‘ক্রাই অফ দ্য আওয়ার’ ভাস্কর্যের জন্য গ্লোবাল এমপ্যাথি কমিউনিটি অসিতকে গত মাসে সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনে ‘গ্লোবাল এমপ্যাথি অ্যাওয়ার্ড’ দেয়।
চিত্রশিল্পী এবং ভাস্কর হিসেবে পরিচিত অসিতের জন্ম পশ্চিম মেদিনীপুরের বাখড়াবাদে। শৈশব থেকেই তিনি ছবি আঁকেন ও মূর্তি গড়েন। বছর কুড়ি আগে তিনি সপরিবার মেচেদায় চলে আসেন। দুঃস্থ শিল্পীদের জন্য একটি স্টুডিয়োও গড়ে তোলেন। কলকাতার অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস ও দিল্লির অল ইন্ডিয়া আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট সোসাইটিতে তাঁর ছবি এবং মূর্তির প্রদর্শন করেছেন। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়, নিমতৌড়ি স্মৃতিসৌধ–সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শিল্পীর তৈরি মূর্তি বসানো হয়েছে।
আরজি করের ঘটনার পরে শিল্পী সিদ্ধান্ত নেন, ওই নারকীয় ঘটনার আর্তনাদ ভাস্কর্যের মাধ্যমে তুলে ধরবেন। সেই মতো ফাইবার গ্লাস দিয়ে শিল্পী গড়ে তোলেন দেড় ফুট উচ্চতার ওই নারীমূর্তি। সেটি তিনি জুনিয়র চিকিৎসকদের পাঠিয়ে দেন। তাঁর কাজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় খুশি অসিত বলছেন, ‘আমার কাছে এটা বড় সম্মান।’
