Published on
:
1 min read
মালদার বুলবুলচণ্ডীর জমিদার বাড়িতে জাঁকজমক ভাবে শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজো। জমিদারি প্রথার অবসান ঘটলেও হারিয়ে যায়নি শতাব্দী প্রাচীন দুর্গাপুজোর সেই স্মৃতি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক সমস্যার কারণে জমিদার পরিবারের পক্ষ থেকে এই পুজো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে সেই গৌরবময় ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে পরবর্তীতে এগিয়ে আসে বুলবুলচণ্ডী মৃত্যুঞ্জয় মেমোরিয়াল ক্লাব। ক্লাবের উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় বছরের পর বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে আয়োজিত হয়ে আসছে এই ঐতিহ্যবাহী পুজো।
ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, তৎকালীন জমিদার স্বর্গীয় ব্রজলাল রায়ের হাত ধরে প্রায় ১৫০ বছর আগে শুরু হয়েছিল এই পুজো। পরবর্তীতে রাজেন্দ্রনারায়ণ রায় এবং এলাকায় 'রানি মা' নামে পরিচিত গিরিজাসুন্দরী দেবী অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এই পুজো পরিচালনা করতেন। জমিদার পরিবারের সদস্য সাধনকুমার রায় জানান, সেকালে মানিকচক ঘাট থেকে গঙ্গার জল আনা হতো, লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুকের গুলি ছুঁয়ে পুজোর সূচনা করা হতো এবং পুজোকে ঘিরে বসত আদিবাসীদের এক বিরাট মেলা ও নাচের আসর।
এ বছরের পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো মণ্ডপসজ্জা, যার মূল থিম টেরাকোটা। বাঁশ, ডালি, কুলো, এবং মাটির তৈরি হাতি, ঘোড়া ও পাখা সহ গ্রামবাংলার নানা লোকশিল্পের সামগ্রী দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে গ্রামীণ সংস্কৃতির নান্দনিক রূপ। প্রায় ৮ লক্ষ টাকা বাজেটের এই পুজোর চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা আসছে চন্দননগর থেকে। পুজো কমিটির সম্পাদক মধু সিংহের বিশ্বাস, ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন ভাবনার এই মেলবন্ধন দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে। পাশাপাশি, পুজোর কয়েক দিন ধরে চলা চার দিনের জমজমাট মেলা পুরো এলাকাকে মাতিয়ে রাখবে।
