October 21, 2026, 7:33 am
ভালো কোম্পানি আসার পথ খুলল
Reporter Name
- Update Time : Wednesday, October 21, 2026
- 10 Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের পুঁজিবাজারের পরিধি বিস্তৃত করতে এবং ভালো মানের কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে নতুন একটি বিধিমালা প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা বিএসইসি। এই নিয়মের ফলে এখন থেকে কোনো ধরনের নতুন শেয়ার ইস্যু না করেই নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সরাসরি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। এর ফলে উদ্যোক্তা, পরিচালক ও পুরোনো শেয়ারহোল্ডারদের হাতে থাকা বিদ্যমান শেয়ার বাজারে বিক্রির বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের সুযোগ আরও বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ হবে।
প্রণীত নতুন এই বিধিমালার আওতায় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি এবং যেগুলোতে সরকারের উল্লেখযোগ্য মালিকানা রয়েছে, তারা সরাসরি বাজারে আসার আবেদন করতে পারবে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত নিট সম্পদ ও বিশাল বার্ষিক টার্নওভার রয়েছে এমন বড় বেসরকারি কোম্পানি, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি মালিকানাধীন সংস্থাও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে বাজারে আসার জন্য এসব কোম্পানিকে অন্তত পাঁচ বছর ধরে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং আগের দুটি অর্থবছরে মুনাফা অর্জনের রেকর্ড থাকতে হবে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর কোনো ধরনের পুঞ্জীভূত লোকসান থাকা চলবে না এবং সর্বশেষ বছরে তাদের পরিচালন নগদ প্রবাহও ইতিবাচক হতে হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি তালিকাভুক্তির অনুমোদন পেতে হলে আগ্রহী কোম্পানি ও তাদের পরিচালকদের অবশ্যই ঋণখেলাপি মুক্ত হতে হবে। এছাড়া তাদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি ও নিরীক্ষা করাতে হবে এবং বিনিয়োগযোগ্য মানের ক্রেডিট রেটিং অর্জন করতে হবে। তালিকাভুক্তির পর কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ত্রিশ শতাংশ শেয়ার নিজেদের কাছে ধরে রাখতে হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, যার মাধ্যমে জ্বালানি ও বীমা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।
তালিকাভুক্তির প্রথম দিন থেকে ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে উদ্যোক্তাদের অন্তত দশ শতাংশ শেয়ার বাজারে বিক্রি করতে হবে এবং শেয়ারের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকারের সহায়তা নিয়ে নির্দেশক মূল্য ঠিক করতে হবে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন যে, নতুন কোম্পানির ক্ষেত্রে সঠিক শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা বেশ বড় একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তা সত্ত্বেও, কঠোর শর্ত ও নিয়মের মধ্য দিয়ে এই বিধিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদে ভালো কোম্পানির সরবরাহ বাড়বে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


