সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার-সিএনসি’র ইউরোপ শাখা গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার লন্ডনের নিউবারি পার্কে সিএনসি’র কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম বদরুদ্দোজার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইউরোপ শাখার কনভেনার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সাংবাদিক সাঈদ চৌধুরী। কো-কনভেনার মনোনীত হয়েছেন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক নোমান আযমী। শাখাটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
সংগঠনটির নির্বাহী প্রধান হিসেবে রয়েছেন লেখক ও সংগঠক মাহবুবুল হক হিরন। এ ছাড়া দেশের বরেণ্য লেখক, সমাজচিন্তক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
সিএনসির ইউরোপ শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম বদরুদ্দোজা সংগঠনটির সামগ্রীক কার্যক্রম এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার-সিএনসি বাংলাদেশের ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন লেখক সৃষ্টি, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চার প্রসার, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, গণসচেতনতা মূলক কার্যক্রম এবং গুণীজনদের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে সংগঠনটি সুধী মহলে সাড়া জাগিয়েছে।
এ সময় তিনি সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচারের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসানসহ বিভিন্ন সময়ে সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিশেষভাবে তিনি সৈয়দ আলী আহসানের জীবন, পাণ্ডিত্য, সাহিত্যকর্ম, শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান এবং জাতীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে ১৯৪৩ সালে স্নাতক এবং ১৯৪৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন সৈয়দ আলী আহসান। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওর কলকাতা কেন্দ্রে এবং পরে রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রে কর্মসূচি নিয়ামক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৩ সালে করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন এবং ১৯৬০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬০ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলা একাডেমির পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ও প্রশাসনিক দায়িত্বে যুক্ত হন। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ১৯৭৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৭-৭৮ সালে তিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ ও একই বছর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
