২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে মিশরের তিন ফুটবল ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ফিফা। নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান, দলীয় ম্যানেজার ইব্রাহিম হাসান এবং ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। গোল ডটকমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসানকে তিন ম্যাচ করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মোস্তফা জিকোর ওপর আরোপ করা হয়েছে পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। তবে এ বিষয়ে ফিফার সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ ও আইনি ভিত্তি জানতে চেয়েছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।
আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর শুরু বিতর্ক
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল মিশর। ম্যাচে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় আফ্রিকার দলটিকে। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ এবং ম্যাচ-পরবর্তী মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় আলোচনা।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনেও আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তাঁর দাবি ছিল, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক স্বার্থও ম্যাচের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো টুর্নামেন্টকে ‘পাতানো’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ, ম্যাচ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত মিশরের খেলোয়াড়দের পরিশ্রমকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।
তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ কোচ ও ম্যানেজার
হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসানের তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা মিশরের আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে মালাউইয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচে তাঁদের পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া ২০২৭ সালের মার্চে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বাছাইপর্বের ম্যাচেও তাঁদের অনুপস্থিত থাকতে হতে পারে।
মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি হোসাম হাসানের চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় জিকো
মোস্তফা জিকোর পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর মাঠে ফেরার অপেক্ষা দীর্ঘ হতে পারে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুনের আগে তাঁর নিষেধাজ্ঞা শেষ না-ও হতে পারে। ফলে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে মিশরের বাকি চারটি ম্যাচসহ আরও একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাবে না।
জাতীয় দলের নিয়মিত খেলোয়াড়দের একজনকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হারানো মিশরের আক্রমণভাগের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
শাস্তির বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রেফারির প্রতি হোসাম হাসানের বিরূপ আচরণ এবং ‘বর্ণবাদের বিরুদ্ধে না’—এমন বার্তা প্রদর্শনের ঘটনাও শাস্তিমূলক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণের পক্ষে তারা ফিফার কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছিল। তবে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি তাঁদের বক্তব্য ও আচরণকে শাস্তিযোগ্য বলে বিবেচনা করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত কারণ ও আইনি ভিত্তি জানতে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে আবেদন করেছে ইএফএ। সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার পর আপিলের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংস্থাটির বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে।
The post আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে রেফারিং নিয়ে সমালোচনা, নিষিদ্ধ ৩ appeared first on SATV.
