বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর জীবনে কখনো ধূমপান করেননি। কিন্তু তারপরও তিনি ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে সর্বপ্রথম তিনি নিজেই ‘কফিউইথ করণ’ শোয়ে এ রোগের কথা প্রকাশ করেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খান ও সাবা আলি খান তাদের মায়ের এ রোগ ও লড়াইয়ের বিস্তারিত তথ্য নতুন করে সামনে এনেছেন।
পতৌদি পরিবারের নবাবপত্নী বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের ফুসফুসে ক্যানসার সংক্রান্ত পুরোনো একটি খবর প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে শর্মিলাকন্যা সাবা ও সোহা দুজনেই জানিয়েছেন, মা কোনো দিনই ধূমপান করেননি। তা সত্ত্বেও ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকে সাধারণ মানুষের মনে উঁকি দিচ্ছে এ সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন।
সাধারণত ফুসফুস ক্যানসারের কথা উঠলে বেশিরভাগ মানুষই ধরে নেন রোগী ধূমপান করেন। কিন্তু শর্মিলা ঠাকুরের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এখন প্রশ্ন হলো— জীবনে একটিও সিগারেট না খেয়ে কি করে ফুসফুসে ক্যানসার বাসা বাঁধতে পারে?
এ বিষয়ে মনোবিদরা বলছেন, হ্যাঁ, পারে! ধূমপান ফুসফুস ক্যানসারের প্রধান কারণ। সে কথা ১০০ শতাংশ সত্যি। কিন্তু এটিই একমাত্র কারণ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যানসার গবেষণা সংস্থার পক্ষ থেকে বায়ুদূষণ ও পার্টিকুলেট ম্যাটারকে মানবদেহের জন্য কার্সিনোজেনিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঘরের ভেতরে অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, উনুন বা কয়লার ধোঁয়া, প্যাসিভ স্মোকিং, রেডন গ্যাস, অ্যাসবেস্টস এবং পরিবারের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পূর্ব ইতিহাসও এ রোগের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।
ধূমপান করেন না এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফুসফুসের ক্যানসারের ধরন কিছুটা আলাদা হতে পারে। অধূমপায়ীদের মধ্যে নন-স্মল-সেল লাং ক্যানসারের একটি রূপ অ্যাডেনোকার্সিনোমা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। এ ধরনের টিউমারে অনেক সময় বিশেষ কিছু আণবিক পরিবর্তন বা মিউটেশন থাকে, যা চিকিৎসকদের সঠিক ও টার্গেটেড থেরাপি বেছে নিতে সাহায্য করে। ফলে রোগীর চিকিৎসার পরিকল্পনা কেবল ধূমপানের ইতিহাসের ওপর নির্ভর করে না; বরং টিউমারের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীরা অনেক সময় ফুসফুসের প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে দূষণজনিত অ্যালার্জি বা সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এ লক্ষণগুলো অবহেলা করা একেবারেই উচিত নয়।
প্রথমত একটানা বা দীর্ঘমেয়াদি কাশি।
দ্বিতীয়ত কোনো কারণ ছাড়াই ওজন হ্রাস পাওয়া।
তৃতীয়ত শ্বাসকষ্ট বা বুকে অস্বস্তি বেড়ে যাওয়া।
চতুর্থত কাশির সঙ্গে রক্ত ওঠা।