Published on
:
3 min read
দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে মেট্রো ও রেল পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইল কেন্দ্রীয় সরকার। আদালতের নির্দেশ ইচ্ছাকৃত ভাবে অমান্য করা হয়নি বলে হলফনামায় দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। একই সঙ্গে, প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে আইন মেনে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার অনুমতি চেয়ে আদালতের আগের নির্দেশ সংশোধনের আর্জিও জানিয়েছেন তিনি।
গত ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জ়নতা পার্টি (CJP)। সেই কর্মসূচির আগে রাজধানীর ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে ঢোকা-বেরনোর বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, দিল্লিগামী একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়। এই বিধিনিষেধে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে বলে প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট।
৯ অক্টোবর শীর্ষ আদালত জানায়, মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা যাবে না। পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে তাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বা অসুবিধা যেন না হয়। এর পরেও নির্দেশ যথাযথ ভাবে কার্যকর হয়নি, এই অভিযোগে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন আইনজীবী শৈলেন্দ্রমণি ত্রিপাঠী। ১১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিস পাঠায় আদালত।
সেই মামলাতেই হলফনামা দিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব। তাঁর বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতেই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে পরের দিন রাত ১০টা পর্যন্ত রাইসিনা হিলের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে ওয়াইফাই ও ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালু ছিল বলে দাবি কেন্দ্রের।
স্বরাষ্ট্রসচিব আদালত অবমাননার নোটিস প্রত্যাহারেরও আর্জি জানিয়েছেন। অন্য দিকে, দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনও জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর নির্ধারিত সংখ্যক ট্রেনই চলেছে। যদিও ৩০৩টি স্টেশনের মধ্যে ৪৫টিতে ঢোকা-বেরোনোর উপর বিধিনিষেধ ছিল। কেন্দ্রের পাশাপাশি DMRC-ও আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে।
কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তবে আদালতের নির্দেশ অমান্য হয়েছে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট।
FAQ
১. দিল্লিতে মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ক্ষমা চাইল কেন কেন্দ্র?
১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বেরোনো নিয়ন্ত্রণ এবং দিল্লিগামী ট্রেন বাতিলের ঘটনায় আদালতের নির্দেশ যথাযথ ভাবে মানা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এই মামলায় হলফনামা দিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে কেন্দ্র।
২. দিল্লিতে কবে বিক্ষোভ হয়েছিল?
১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর প্রতিবাদ ছিল কর্মসূচির মূল বিষয়।
৩. দিল্লিতে কতগুলি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ জারি হয়েছিল?
DMRC-র দাবি অনুযায়ী, দিল্লির ৩০৩টি মেট্রো স্টেশনের মধ্যে ৪৫টিতে প্রবেশ ও বেরোনোর উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সংখ্যক ট্রেন চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
৪. দিল্লিতে কতক্ষণ মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ ছিল?
কেন্দ্রের হলফনামা অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত রাইসিনা হিলের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। কেন্দ্রের দাবি, ওই সময়ে ওয়াই-ফাই ও ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালু ছিল।
৫. সুপ্রিম কোর্ট আগে কী নির্দেশ দিয়েছিল?
৯ অক্টোবর শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা যাবে না। পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করা হলেও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যেন ভোগান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রসচিব কী আবেদন জানিয়েছেন?
স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন হলফনামায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি আদালত অবমাননার নোটিস প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছেন। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে আইন মেনে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখার অনুমতি চেয়ে আদালতের আগের নির্দেশ সংশোধনের আবেদনও করেছেন।
৭. সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার মামলা কে করেছিলেন?
আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী আদালতের নির্দেশ যথাযথ ভাবে কার্যকর না হওয়ার অভিযোগে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেছিলেন। ১১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিস পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট।
৮. কেন্দ্রের ক্ষমা চাওয়ার পর কি মামলা বন্ধ হয়ে যাবে?
না, শুধু ক্ষমা চাওয়ার অর্থ এই নয় যে মামলা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রের আবেদন, বিধিনিষেধের পরিস্থিতি এবং আদালতের নির্দেশ কতটা মানা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখে সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।