দুই মিনিটের ব্যবধানে একাধিকবার হয় লোডশেডিং, বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে জেনারেটর ছাড়তে গিয়ে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয় এবং বেজে ওঠে ফায়ার এলার্ম। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টের সৈকত লাগোয়া ইসিএ বা পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় নির্মিত হোটেল ' দ্যা সি প্রিন্সেস ' এ এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় ৩০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
অগ্নিকান্ডের সময় ১৪১টি কক্ষ বিশিষ্ট হোটেলটিতে প্রায় ৩ শতাধিক পর্যটক অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে, ফায়ার এলার্মের শব্দে আগুনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তারা বাইরে চলে আসেন।
ফায়ারসার্ভিসের কক্সবাজার কার্যালয়স্থ উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন ঢাকা পোস্টকে জানান, আগুনের খবর পেয়ে দ্রুতই নিকটবর্তী ফায়ারসার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট সেখানে উপস্থিত হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি জেনারেটরের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে তবে কেউ হতাহত হননি।
হোটেলটির একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মোহাম্মদ আকাশ। তিনি বলেন, হঠাৎ এলার্মের মত শব্দ শুনে নিচে নেমে এসে দেখি পার্কিংয়ে আগুন লেগেছে। ভাগ্য ভালো বড় কিছু ঘটেনি।
পার্শ্ববর্তী পানের দোকানী আব্দুস সালাম বলেন, বিকেলের সময় হওয়ায় আগুন যখন লাগে তখন সৈকত এলাকায় মানুষের সমাগম ছিলো, কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও লোকজন থাকায় বড় বিপদ এড়ানো গেছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসেরও লাইন্সেস আছে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কুতুবউদ্দিন জানান, ১২ বছর আগে 'দ্য সি প্রিন্সেস' বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে৷
অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লোডশেডিং হচ্ছিলো, সে সময় জেনারেটরে হঠাৎ আগুন ধরে এবং ছড়িয়ে পড়ার আগেই হোটেল কর্মীরা দ্রুত পদক্ষেপ নেন। ব্যবস্থাপনার কারণে ফায়ার এর্লাম বেজে উঠে এবং হোটেলে অবস্থানরত ৩ শতাধিক পর্যটককে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
গত ১৭ অক্টোবর সকালে উখিয়ার মেরিনড্রাইভ সংলগ্ন ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১০ পর্যটক নিহত হন।
ফলে, মৌসুমে বারবার অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।
ইফতিয়াজ নুর নিশান/এমটিআই
