সাঈদীর মামলার সাক্ষী মানিক পশারীকে পুলিশি পাহারায় দাফন
জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে মৃত্যুর প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর পুলিশি পাহারায় দাফন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান ও পিরোজপুরে দাফন নিয়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বজনেরা। তবে জামায়াত নেতারা বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বাংলাদেশ
জার্নাল ডেস্কপিরোজপুরে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ ১৫ ঘণ্টা পর পুলিশি পাহারায় দাফন করা হয়েছে।
শনিবার রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর (৮৭) লাশ দাফন করা হয় বলে জানিয়েছেন পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম।
এর আগে মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানে এবং পিরোজপুরে কবর দিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁর স্বজনেরা।
পরে পিরোজপুর জেলা পুলিশের সহায়তায় মরদেহটি পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিরাপত্তার মধ্যে মরদেহ রাখা হয়।
রাত ১টার দিকে সদর থানা-পুলিশের সহায়তায় মানিক পশারীর মরদেহ চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনেরা। সেখানে রাত ২টার দিকে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় মানিক পশারীর স্ত্রী ও সন্তান উপস্থিত ছিলেন।
মানিক পশারীর বোন মোছাম্মৎ রিনা আক্তার বলেন, “আমার ভাই মারা গেছেন। প্রথমে আমরা তাকে দাফনের জন্য পিরোজপুরে নিয়ে আসি। তখন দাফন করতে না পারায় আমরা বিপাকে পড়ি।”
এর আগে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ নিয়ে আসা হলে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন তাঁর স্বজনেরা।
মানিক পশারীর মেয়ে জামাই ফারুক হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মানিক পশারী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় তাঁর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দুই মাস ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভোগার পর শনিবার সকাল ১০টায় তিনি মারা যান।
ফারুক হোসেন বলেন, “পরে দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তাকে গার্ড অফ অনারের জন্য আনা হলে বাধা প্রদান করা হয়। তিনি একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা। পরে পুলিশ তাকে পুলিশ লাইনসের ভিতরে গোপনে গার্ড অব অনার দিয়ে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।”
তখন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন, “মানিক পশারী একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, তাকে কোনোভাবেই গার্ড অনার দিতে দেওয়া হবে না। পিরোজপুরের মাটিতে মানিক পশারীর লাশ দাফন করতে দেওয়া হবে না।”
এ সময় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের অবস্থান করতেও দেখা গেছে।
তবে দাফনের পর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতৃবৃন্দ কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করেনি।
“জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, “মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে আমাদের কোন বক্তব্য বা বাধা ছিল না, নেইও। আপত্তি ছিল একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাকে 'গার্ড অব অনার' প্রদান নিয়ে। যদিও প্রশাসন মিথ্যাচার ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাপ্ত একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গোপনে গার্ড অব অনার প্রদান করেছে।”
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছিল। এ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন মানিক পশারী।
পরে ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মারা যান।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কবরের পাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম