Published on
:
2 min read
এই সময়: কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট—দু’বার করে নির্দেশ দেওয়ার পরেও খুনের মামলায় অভিযুক্ত সাসপেন্ডেড বিডিও প্রশান্ত বর্মন এখনও অধরাই। তাঁর গ্রেপ্তারি এড়ানোর আবেদন গত ১৩ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে শেষ বার খারিজ হয়েছে। তার পরে কেটে গিয়েছে দশ দিন। কিন্তু এখনও নাকি তাঁর নাগাল পায়নি বিধাননগর পুলিশ! আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা নিয়ে পুলিশের ভূমিকায় সমালোচনা উত্তরোত্তর বাড়ছে।
প্রশান্তকে আত্মসমপর্ণ করতে অক্টোবরের গোড়ায় নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন বিতর্কিত ওই বিডিও। শীর্ষ আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকরের নির্দেশ দেয়। শুনানিতে অভিযুক্তের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, একজন ব্যক্তি গোটা ব্যবস্থাকে উপহাস করছেন। অভিযুক্তকে এতদিনেও গ্রেপ্তার করা গেল না কেন, তা নিয়ে রাজ্য ও পুলিশের ভূমিকাতেও প্রশ্ন ওঠে শীর্ষ আদালতে। আত্মসমর্পণ না করলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ রয়েছে হাইকোর্টের। কিন্তু তার পরেও পরিস্থিতির বদল হয়নি। প্রশান্তের খোঁজে গত দশ দিনে কী পদক্ষেপ করেছে পুলিশ, তা জানতে চাওয়া হলে বিধাননগর পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের তরফে স্পষ্ট কোনও জবাব মেলেনি। পুলিশের এক আধিকারিকের বরং দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে অভিযুক্ত নেপালে পালিয়ে গিয়েছেন। তাঁকে খুঁজতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলছে। কিন্তু নেপালে পালিয়ে যাওয়ার দাবির সপক্ষে কী তথ্য রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়নি পুলিশের বক্তব্যে। অভিযুক্তের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও তথ্যই তারা প্রকাশ্যে আনেনি।
অক্টোবরের গোড়ায় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁকে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তারও আগে বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় ওই খুনের মামলায় অন্য এক অভিযুক্তের জামিনের শুনানিতে প্রশান্তকে ১৫ দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার করে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে রিপোর্ট দেওয়ার জন্যে রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারও আগে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বারাসত আদালত থেকে পাওয়া প্রশান্তর আগাম জামিন খারিজ করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে প্রশান্তর আবেদন পত্রপাঠ খারিজ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। দায় এড়াতে পুলিশের একাংশ এখন যুক্তি দেওয়া চেষ্টা করছে এই বলে যে, প্রশান্তকেই আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অর্থাৎ, অভিযুক্তেরই সব দায়িত্ব। কিন্তু আদালতের নির্দেশ কোনও অভিযুক্ত না–মানলে পুলিশকেই সে নির্দেশ কার্যকর করতে হয়—সেটাই আইন, নজিরও অসংখ্য। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের নির্দেশও এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট।
তার পরেও পুলিশ যে কিছুই করেনি, তা ঘটনাক্রমে আরও বেআব্রু। এমন ‘ফেরার’ থাকা অবস্থায় নিউ টাউনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে আহত করে জনতার হাতে বন্দি প্রশান্তকে পুলিশ যে ভাবে জামিন পেতে কার্যত সাহায্য করেছিল, তা কেউ ভোলেননি। সে বার আদালতে খুনের মামলার উল্লেখ পর্যন্ত করেনি পুলিশ। পুলিশের সদিচ্ছা নিয়েই তাই প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল আমল এবং বিজেপি জমানায় প্রশান্তর একই রকম ‘প্রভাবের উৎস’ নিয়ে চর্চাও তাই সমানে চলছে।
প্রশান্ত বর্মনের ডব্লিউবিসিএসে শূন্য পেয়ে বিডিও পদে যোগদান নিয়ে হাইকোর্টে আগেই দায়ের মামলার আইনজীবী শামিম আহমেদের বক্তব্য, খুনের মামলায় অভিযুক্তকে আদালতের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই নির্দেশ কার্যকরে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকাও প্রত্যাশিত। আদালতের নির্দেশ কার্যত অগ্রাহ্য করে একজন অভিযুক্ত যে ভাবে দীর্ঘদিন অধরা থাকছেন—তা একদিকে বিচার বিভাগ, অন্য দিকে পুলিশের জন্যে সম্ভবত গোটা দেশে নেতিবাচক নজির হয়ে থাকছে।
