রায়বাড়ির মন্দির ও দুর্গা দালানEi Samay
Published on
:
2 min read
বাবলু সাঁতরা, চন্দ্রকোণা
গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে শিলাবতী নদী। এক বন্যায় নদীতে ভেসে এসেছিল পিতলের একটি কলসি। বাড়ির পাশে একটি গাছে তা আটকে যায়। সেই রাতেই মঙ্গলচণ্ডী দেবীর স্বপ্নাদেশ পান বাড়ির এক সদস্য। ভেসে আসা সেই পিতলের কলসি ঘরে এনে ঘট হিসেবে প্রতিস্থাপন করে পুজোর নিদান দিয়েছিলেন কুলদেবী মঙ্গলচণ্ডী। চন্দ্রকোণার খিরাটীর রায় পরিবারে দুর্গাপুজোর শুরু এমন জনশ্রুতির হাত ধরেই।
বনেদি এই পরিবারের পুজোয় ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় পনেরো মন ধানের আতপ চাল। সঙ্গে থাকে হরেকরকমের তরিতরকারি। পুজোর দিনগুলিতে নিয়ম করে পাঠ করা রামায়ণ। নিয়মনীতি মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে খিরাটীর রায় পরিবারে পুজিত হন দুর্গা। রায়বাড়ির পুজোর বয়স প্রায় ৩৫০ বছর। কথিত আছে, রায়বাড়ির পূর্বপুরুষ গুরুদাস রায়, ঠাকুরদাস রায় ও গোঁসাই দাস রায় ছিলেন তিন ভাই। তাঁদের আদিবসত ছিল হুগলির ধূলাডাঙা গ্রামে।
কাজের সূত্রে খিরাটীতে এসেছিলেন তিন ভাই। সেই বছরেই বন্যা হয় চন্দ্রকোণায়। খিরাটী গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে শিলাবতী। সেই নদীতে ভেসে এসেছিল একটি পিতলের কলসি। রায়বাড়ির অদূরে সেটি একটি গাছে আটকে যায়। সেদিনই রাতে মা মঙ্গলচণ্ডীর স্বপ্নাদেশ পান মেজোভাই ঠাকুরদাস। পরিবারের দাবি, মঙ্গলচণ্ডীর স্বপ্নাদেশ ছিল সিঁদুর মাখানো ওই কলসি বাড়িতে এনে ঘট হিসেবে প্রতিস্থাপন করে দুর্গাপুজো শুরু করতে হবে। নির্দেশ মেনে রায়বাড়িতে আজও হয়ে আসছে পুজোর আয়োজন।
বাড়িতে মঙ্গলচণ্ডীর মন্দিরের পাশে রয়েছে দুর্গাদালান, নহবতখানা, দ্বাদশ শিবালয়। রয়েছে রাসমন্দির ও নারায়ণ মন্দির। প্রতিদিন নিয়ম করে সমস্ত মন্দিরে নিত্যসেবা হয়। পরিবারের দাবি, মঙ্গলচণ্ডীর কৃপায় প্রচুর বৈভবের অধিকারী হয়েছিলেন তিন ভাই। আজ কর্মসূত্রে পরিবারের কেউ দেশের অন্যত্র তো কেউ বিদেশে রয়েছেন। তবে পুজোর সময়ে সবাই এসে হাজির হন বাড়িতে। রায়বাড়ির পুজো দেখতে ভিড় করেন আশপাশের একাধিক গ্রামের মানুষ। পুজোর দিনগুলিতে নানা রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেমন থাকে। তেমনই নরনারায়ণ সেবা, দুঃস্থদের দান করা হয়।
দুর্গাদালানে জন্মাষ্টমীর দিন মাটি তোলা হয় প্রতিমা তৈরির জন্য। দুর্গামন্দিরে একই মেড়ে (কাঠামোয়) তে তৈরি হয় দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ। পুজো হয় বৈষ্ণব মতে। তাই এখানে নেই বলির প্রথা। পুজোর রীতি মেনে ১৫ মন ধানের আতপ চাল দিয়ে মায়ের ভোগ তৈরি হয়। সঙ্গে থাকে হরেকরকম নিরামিষ পদ। ষষ্ঠী থেকে নবমী নিয়ম করে দুর্গামন্দিরে রামায়ণ পাঠ হয়। আগে দুর্গাদালানে যাত্রাপালার আসর বসতো। এখন আর তা হয় না। পরিবারের সদস্য শিখা রায় বলেন, 'আমাদের পুজোর বৈশিষ্ট্য হলো মায়ের ভোগ। ভোগ রান্না করেন মহিলারাই। দশমীর দিন দুপুরে বাড়ির সব মহিলা সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন।'