পরিবারের সঙ্গে প্রথমবার ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাচ্ছিলেন ভারতের হায়দরাবাদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ আলি। কিন্তু যাত্রাপথেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান তিনি। আহত হয়েছেন তাঁর দুই ছেলে।
গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে হুতিদের হামলায় নিহত ১৩ জনের মধ্যে ছিলেন ইউসুফ। এ ঘটনায় আরও ৩০০ জন আহত হন।
আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মদিনাগামী ফ্লাইটের অপেক্ষায় বিমানবন্দরে ছিলেন ইউসুফের পরিবারের অন্য সদস্যরা। এ সময় জুস কিনতে বড় ছেলেকে নিয়ে বাইরে যান তিনি। বিমানবন্দর থেকে কয়েক শ মিটার দূরে থাকতেই হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ওই এলাকায় আঘাত হানে। এতে বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে ইউসুফের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
ইউসুফের চাচাতো ভাই ও প্রতিবেশী মোহাম্মদ আকবর হাশমি জানান, হামলায় ইউসুফের একটি পা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার দ্বিতীয় দিন তাঁর মৃত্যু হয়।
সৌদি আরব ও ভারতে কাজ করা ইউসুফ এবার দেশে ফিরে পুরো পরিবারকে নিয়ে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে, মেয়ে ও এক খালাকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই যাত্রা। বড় ছেলে প্রকৌশল বিষয়ে পড়ার জন্য কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় সফল হওয়ায় উদযাপন এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবেও সফরটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
হামলায় ইউসুফের দুই ছেলে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বড় ছেলের দুই হাঁটুর ক্যাপ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এবং পেটে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। ভাঙা কাচ পেটের ভেতরে ঢুকে যকৃৎ স্পর্শ করায় তাঁকে আরও তিন সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। পরিবারের মেয়ে ও খালা তুলনামূলক কম আহত হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। ইউসুফের স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি না হলেও সন্তানদের দেখাশোনা করছেন।
হাশমি বলেন, পরিবারের সদস্যরা ভয়াবহ মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য, বেসামরিক বিমানবন্দর ও শপিংমলের মতো স্থানে হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
বিআলো/শিলি