ছবির ক্যাপশন: .
মুহম্মদ শফিকুল ইসলাম রানা
তফসিল ঘোষণা না হলেও আসন্ন গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির মাঠ ও পাড়া-মহল্লায় পুরোদমে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সুপরিচিত নেতা, তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মিলন গাজী। গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ইতিমধ্যে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছেন।
স্থানীয় সাধারণ ভোটার ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিলন গাজী দীর্ঘদিন ধরে গজারিয়া ইউনিয়নে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে থাকা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথের আন্দোলনে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে দলীয় মহলে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। পাশাপাশি এলাকার অবহেলিত ও মেহনতি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে তিনি নিজেকে একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
বিগত দিনে বিভিন্ন দুর্যোগ, বন্যা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে মিলন গাজী ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। বিশেষ করে এলাকার যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন। ফলে তরুণ ভোটারদের মাঝেও তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রার্থিতার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা মিলন গাজী বলেন, "আমি পদের মোহে বা ক্ষমতার লোভে নয়, বরং গজারিয়া ইউনিয়নের আপামর জনসাধারণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও এলাকার টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চাই। দীর্ঘ সময় ধরে এই ইউনিয়নের মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তবে আমি সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে একটি ঐতিহাসিক বিজয় সুনিশ্চিত করব।"
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে এই তরুণ রাজনৈতিক নেতা আরও বলেন, "নির্বাচিত হলে আমার প্রধান লক্ষ্য হবে গজারিয়া ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত ও সন্ত্রাসহীন মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা। সরকারি-বেসরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা যেন প্রতিটি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া এলাকার জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট মেরামত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা আমার অন্যতম অগ্রাধিকার।"
এদিকে মিলন গাজীর প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই গজারিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মিলন গাজী তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় নির্বাচনী গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।
এলাকার বেশ কয়েকজন প্রবীণ ভোটার ও সাধারণ নাগরিক জানান, গজারিয়া ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি ও একটি নিরাপদ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মিলন গাজীর মতো একজন শিক্ষিত, তরুণ ও কর্মঠ নেতৃত্বের প্রয়োজন। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন মিলন গাজীর নাম শোনা যাচ্ছে। দলের হাইকমান্ড মাঠপর্যায়ের এই জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে তাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় তৃণমূল বিএনপির বড় একটি অংশ।
