শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক টানা ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকদের ঢল নামায় হোটেল-রিসোর্টগুলোতে বুকিং সম্পন্ন হয়েছে শতভাগ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, সারা বছর কমবেশি পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বান্দরবান। তবে এবার দুর্গাপূজা ও টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। বান্দরবান সদর ছাড়াও রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা ও আলীকদমের পর্যটন স্পটগুলোতে ভ্রমণপিপাসুদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে।
আরও পড়ুন
পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সদরের মেঘলা, নীলাচল, প্রান্তিক লেক, শৈলপ্রপাত ও রুপালি ঝরনা, রোয়াংছড়ির দেবতাখুম, রুমার বগালেক, কেওক্রাডং ও সুংসাং পাড়া, থানচির নীলগিরি, রেমাক্রী, তিন্দু, নাফাখুম ও তমাতুঙ্গী, লামার মিরিঞ্জা এবং আলীকদমের আলীর গুহাসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র।
পর্যটকদের বাড়তি চাপের কারণে শুক্রবার ও শনিবারের জন্য জেলার অধিকাংশ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে কক্ষের শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও আগামী কয়েক দিনেও কক্ষ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে আগাম বুকিং নিশ্চিত না করে আসা পর্যটকদের আবাসন খুঁজতে এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে ছুটতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন
স্থানীয় বাসিন্দা সাঈদুল ইসলাম জানান, স্বজনদের জন্য হোটেলে কক্ষ বুকিং দিতে গত দুই দিন ধরে ৩৫ থেকে ৪০টি হোটেলে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু কোথাও কক্ষ পাননি। হোটেল কর্তৃপক্ষের বরাতে তিনি জানান, আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত কক্ষ পাওয়া কঠিন হতে পারে।
নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা টিটু জানান, শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার পর্যটক নীলাচলে প্রবেশ করেছেন।
রোয়াংছড়ি পর্যটক গাইড সমিতির সভাপতি চিংনু মং মারমা বলেন, বুধবার ৭৬৩ জন পর্যটক দেবতাখুম ভ্রমণ করেছেন।
হোটেল হিল ভিউয়ের ব্যবস্থাপক পারভেজ বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে তাদের হোটেলে আশানুরূপ পর্যটক সাড়া পাওয়া গেছে।
হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালির ব্যবস্থাপক আক্কাস উদ্দীন জানান, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর তাদের হোটেলের শতভাগ কক্ষ বুকিং রয়েছে। এ ছাড়া ২৪ ও ২৫ অক্টোবরের জন্যও গড়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং দিয়েছেন পর্যটকেরা।
মেঘলা পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক মো. শোয়েব বলেন, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের মোটেলের কোনো কক্ষ খালি নেই। এখনো প্রতিদিন কক্ষের জন্য পর্যটকেরা যোগাযোগ করছেন। তবে বুকিং পূর্ণ থাকায় নতুন করে কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, শুক্রবার সমিতির অন্তর্ভুক্ত হোটেল-রিসোর্টগুলোতে শতভাগ বুকিং রয়েছে। তবে পরদিন থেকে বুকিংয়ের হার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ হতে পারে।
পরিবহন খাতেও বেড়েছে ব্যস্ততা। বান্দরবান জিপ-মাইক্রোবাস মালিক সমিতির লাইনম্যান কামাল হোসেন জানান, শুক্রবার সকাল থেকে প্রতিটি গাড়িতে গড়ে ১৩ জন করে যাত্রী নিয়ে প্রায় ৪৩৭টি পর্যটকবাহী গাড়ি বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্র ও বিভিন্ন চেকপোস্টে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) গোপা বিশ্বাস বলেন, দুর্গাপূজার পরপরই বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা উৎসব থাকায় এবার বান্দরবানে পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে। আগামী ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর মারমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে বা প্রবারণা উৎসবকে কেন্দ্র করেও পর্যটকদের আগমন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় অব্যাহত থাকতে পারে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, উৎসবের ছুটিতে আবাসন, পরিবহন, খাবার, পর্যটনকেন্দ্রের প্রবেশ ফি ও স্থানীয় পণ্য কেনাবেচা মিলিয়ে বান্দরবানে আট থেকে দশ কোটি টাকার বেশি আর্থিক লেনদেন হতে পারে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিক ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার মানুষের আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রিজভী রাহাত/খাদিজা রুমি/
