কোন সংখ্যালঘূ সম্প্রদায়ের সদস্য হিসাবে নয়, হিন্দু ভাই-বোনেরাসহ অন্যান্য সকল জাতি ধর্মের মানুষেরা এ সমাজে কেবল একটাই পরিচয় নিয়ে বসবাস করবেন, তা হলো আমরা সবাই বাংলাদেশী।
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
কোন সংখ্যালঘূ সম্প্রদায়ের সদস্য হিসাবে নয়, হিন্দু ভাই-বোনেরাসহ অন্যান্য সকল জাতি ধর্মের মানুষেরা এ সমাজে কেবল একটাই পরিচয় নিয়ে বসবাস করবেন, তা হলো আমরা সবাই বাংলাদেশী। বাংলাদেশী নাগরিক হিসাবে এটাই আমাদের একমাত্র পরিচয়। যারা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের সংখ্যা দিয়ে হিসাব করে, তারা কেবল এটাকে ফায়দা নেয়ার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময়। স্বাধীনতা পরবর্তী আজ পর্যন্ত যারা নিজেদের হিন্দুদের পক্ষের লোক দাবি করে, হিন্দুদের ভোট নিয়ে এমপি হয়েছে তারাই হিন্দুদের সংখ্যালঘু বানিয়ে রেখেছে। আমি এমপি নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের আর সংখ্যালঘু হিসেবে থাকা লাগবে না। ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিটি মানুষ বাংলাদেশের একজন গর্বিত ও সম্মানিত নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করবে এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে প্রাপ্য হবে। গতকাল সোমবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকায় রুহিয়া উপজেলার, রুহিয়া ইউনিয়নের সেনপাড়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, জামায়াতে ইসলামী এদেশের কোনো নাগরিককে সংখ্যালঘু হিসেবে দেখতে চায় না। জামায়াতে ইসলামী দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। তিনি বলেন, ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় জাতিগত বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। সমাজের প্রতিটি মানুষ এক এবং অভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজে মুসলিম যদি নির্বিঘেœ ধর্ম চর্চা করতে পারে তবে ভিন্ন ধর্মের মানুষও নির্বিঘেœ তার ধর্ম চর্চা করতে পারবে। হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসবের আগে কেন নিরাপত্তা জোরদার করতে হচ্ছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কারণ হিন্দুদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এদেশে সংখ্যালঘু হিসেবে বানিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য ঠাকুরগাঁওয়ে চলতে দেওয়া হবে না বলে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে আশ্বস্ত করেন। এসময় তিনি, আগামী ২৯ অক্টোবর দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান। এ সময় তিনি উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের কাছে প্রশ্ন রাখেন, ঠাকুরগাঁওয়ে আজ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী কিংবা কোনো মসজিদের ইমাম-খতিব, মাদরাসা-মোক্তবের মৌলিভী হিন্দুদের সম্পদ দখল করেছে কি-না, হিন্দুদের বাড়িঘর ভাঙচুর কিংবা লুটপাট করেছে কি-না। উপস্থিত সকলে একবাক্যে জবাব দেন ‘না’।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, যতদিন না সমাজে ইসলামী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে ততদিন ক্ষমতাসীনরা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের এদেশে সংখ্যালঘু হিসেবে বানিয়ে রাখবে। শাসকগোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতি স্বার্থে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহার করেছে এবং আগামীতেও করবে। তিনি উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা আপনাদেরকে বিগত সময়ে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের বয়কট করতে হবে। দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের আর সংখ্যালঘু হিসেবে সমাজে বাস করতে হবে না বরং নিজের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, দখলদারিত্বের প্রতিবাদ দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে নিজের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
রুহিয়া উপজেলা আমীর আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমানের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় আরওবক্তব্য রাখেন পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা সেক্রেটারি আলহাজ্ব বজলুর রহমান। এসময় স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা নির্বাচনী সমাবেশে পরিণত হয়।
