বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সরকারি কৃষি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৯৫টি পরিবারের কাছ থেকে জনপ্রতি ২৫০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষি অফিসের এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাওনের বিরুদ্ধে। পাইন্দু ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পলি প্রাংসা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরকারি কৃষি কার্ড বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও অর্থ আদায়ের এমন অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁরা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, আদায়কৃত অর্থের হিসাব প্রকাশ এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পলি প্রাংসা পাড়ার ৯৫টি পরিবারের কাছ থেকে কৃষি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ২৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, টাকা না দিলে কৃষি কার্ড পাওয়া যাবে না—এমন কথা বলা হয়েছিল।
পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও কয়েকজন বাসিন্দাকে জানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
পাড়াবাসীর ভাষ্য, কৃষকদের জন্য সরকারের নেওয়া সহায়তা কর্মসূচিতে কার্ড পেতে টাকা দিতে হলে দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়। সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এমন অর্থ আদায়ের অভিযোগের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি চান তাঁরা।
পাইন্দু ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অংসাপ্রু মারমা বলেন, পলি প্রাংসা পাড়ার বাসিন্দাদের কাছ থেকে কৃষি কার্ডের জন্য জনপ্রতি ২৫০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কৃষি কার্ডের জন্য টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। কেউ অন্যায়ভাবে টাকা নিয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”
পলি প্রাংসা পাড়ার দুই বাসিন্দা জানান, কৃষি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করছেন। তাঁদের দাবি, কার্ডের জন্য টাকা দেওয়ার বিষয়টি কেন প্রয়োজন হলো, তা পরিষ্কার করা দরকার। তাঁরা অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্ত, অর্থ আদায়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অন্যায়ভাবে টাকা নেওয়া হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে রুমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কৃষি কার্ডের জন্য সরকারিভাবে কোনো অর্থ লেনদেনের প্রয়োজন নেই। এ কার্ড বিনামূল্যে দেওয়ার কথা এবং অর্থ আদায়ের কোনো নিয়ম নেই।
তিনি আরও বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাওনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ৯৫টি পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টি যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে অর্থ গ্রহণের সঙ্গে কারা জড়িত, আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ কত এবং এর কোনো সরকারি ভিত্তি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যায়ভাবে আদায় করা অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারি সহায়তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাওনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তসাপেক্ষ।