বিএসএফের গুলিতে আহত দুই ভারতীয় নাগরিকের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর আদেশ
অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে বিএসএফের গুলিতে আহত ভারতের দুই নাগরিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৭ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলার ইসমাইল হোসেন (৩৫) ও খাজা আব্দুল আলীম মণ্ডল (৩৯)।
পুলিশের অভিযোগ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুরের একটি ক্লিনিকে খোঁজ নিয়ে আহত অবস্থায় ওই দুই ভারতীয় নাগরিকের চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পায় পুলিশ। পরে তাঁদের কাছে বাংলাদেশে প্রবেশের বৈধ কাগজপত্র চাওয়া হলে তাঁরা পাসপোর্ট ও ভিসা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ওই দিন সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দইখাওয়ার চর সীমান্ত দিয়ে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে দ্য কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্ট, ১৯৫২-এর ৪ ধারায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
আসামিপক্ষের বক্তব্য
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক সুমন বলেন, ওই দুই ব্যক্তি ভারতের সীমান্তবর্তী মানিকারচর এলাকায় কালাইখেতে কাজ করছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের পরিচয় জানতে চান। তাঁরা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করলেও বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করে আটক করে।
আইনজীবীর অভিযোগ, আটকের পর তাঁদের মারধর ও ছররা গুলি করে আহত করা হয়। পরে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দইখাওয়ার চরসংলগ্ন সীমান্তে তাঁদের ফেলে রেখে যাওয়া হয়। সেখান থেকে স্থানীয় মাঝি ও জেলেরা তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিয়ে আসেন বলে তিনি দাবি করেন।
অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক সুমন আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাঁর মক্কেলদের ঘটনাটিও সে ধরনের হতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন। বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টির স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আগামী ২৭ অক্টোবর পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
পুলিশের অনুপ্রবেশের অভিযোগ এবং আসামিপক্ষের বক্তব্যের বিষয়ে আদালতে পরবর্তী শুনানিতে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
