Published on
:
2 min read
প্রশান্ত ঘোষ, ভাঙড়
অনেক প্রতিবাদ, আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করে ভাঙড়ে হিমঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল তৃণমূল সরকার। অভিযোগ, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সেই হিমঘর আটকে রয়েছে ঠান্ডা ঘরেই! ভাঙড়ের পোলেরহাট-২ অঞ্চলের নতুনহাট সংলগ্ন এলাকায় প্রস্তাবিত মাল্টিপারপাস হিমঘর তৈরির কাজ এখনও শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে চাষি থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। কবে হিমঘর তৈরির কাজ শেষ হবে, কবে থেকে চাষিরা মালপত্র মজুত করে রাখতে পারবেন সে ব্যাপারে সদুত্তর দিতে পারেননি জেলা প্রশাসনের কর্তারাও।
২০১৬ সালে পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা আন্দোলন থামাতে তৎকালীন সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে জমি কমিটির চুক্তি হয়। সেই চুক্তিতে এলাকার উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রকল্পের পাশাপাশি মাল্টিপারপাস হিমঘর তৈরি এবং বিদ্যাধরী নদী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে চুক্তির বেশ কিছু কাজ এগোলেও হিমঘর এবং নদী সংস্কারের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ বলে অভিযোগ। চুক্তি অনুযায়ী নতুনহাট বাজারের কাছে পাওয়ার গ্রিড সংলগ্ন এলাকায় প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে হিমঘর তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। ২০২২ সালের জুলাইয়ে জমি রেজিস্ট্রেশন ও হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। পরের মাসেই হিমঘর তৈরির জন্য দরপত্র ডাকা হয়। জমি কেনার জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা এবং নির্মাণের জন্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়। ২০২৩–এর গোড়ায় শুরু হয় নির্মাণকাজ। প্রথমেই নিচু জমি জমি ভরাট করা হয় কয়েক মাস ধরে। দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। অর্থাৎ ২০২৪–এর জুন-জুলাইয়ের মধ্যেই প্রকল্প চালু হওয়ার কথা। কিন্তু ২০২৬ পেরিয়ে গেলেও এখনও কাজ শেষ হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিল্ডিং নির্মাণ হয়েছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। চাষিদের বক্তব্য, ভাঙড়ে সারা বছরই টোম্যাটো, লঙ্কা, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, পটল, পেঁপে, কলার মতো নানা ধরনের আনাজ চাষ হয়। কিন্তু কাছাকাছি বড় হিমঘর না থাকায় বাজারে চাহিদা কমে গেলে বা দাম পড়ে গেলে উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ করতে পারেন না চাষিরা। বাধ্য হয়ে অনেক সময়েই মাঠের ফসল ফেলে দিতে হয়। প্রস্তাবিত হিমঘর চালু হলে শুধু আলু-পেঁয়াজ নয়, মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের আনাজও সংরক্ষণ করা যাবে। উপকৃত হবেন ভাঙড়ের পাশাপাশি হাড়োয়া, রাজারহাট, জীবনতলা, মিনাখাঁ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার চাষিরা।
যাদের আন্দোলনে ভাঙড়ে হিমঘর তৈরির কাজ চলছে, সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ মির্জা হাসান বলেন, 'যে এজেন্সি এই কাজের বরাত পেয়েছে তারাই সময় মতো কাজ শেষ করতে পারেনি।' ভাঙড়-২ ব্লকের বিডিও কল্যাণ মান্ডি বলেন, 'আমি নতুন এসেছি। যাতে দ্রুত কাজ শেষ হয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
