ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই, দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা আর একটি গ্রাম রক্ষার সংগ্রাম নিয়ে তৈরি হয়েছে বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার নতুন সিনেমা ‘রানাবালি’। সম্প্রতি প্রযোজনা সংস্থা মিথ্রি মুভি মেকার্স সিনেমাটির ট্রেলার প্রকাশ করেছে। রাহুল সাংকৃত্যনের পরিচালনায় নির্মিত পিরিয়ড অ্যাকশন ড্রামাটির পটভূমি ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষ। প্রায় ৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ট্রেলারে উঠে এসেছে তৎকালীন গ্রামীণ রায়লসীমার জীবন, ব্রিটিশ শাসকদের অত্যাচার এবং সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই।
সিনেমায় রানাবালি চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিজয় দেবরাকোন্ডা। কাল্পনিক সিঙ্গানামালা গ্রামের ঘোড়সওয়ার ও যোদ্ধা রানাবালি নিজের গ্রাম ও মানুষকে রক্ষায় ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়ান। পাহাড়ের একটি রহস্যময় গুহার বাইরে তার জন্মের দৃশ্য দিয়ে শুরু হয় ট্রেলার। এক সাধুসদৃশ ব্যক্তি শিশুটির নাম রাখেন রানাবালি। ট্রেলারের প্রথম অংশে রানাবালি ও জয়াম্মার প্রেম এবং বিয়ের দৃশ্যও রয়েছে। জয়াম্মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাশমিকা মান্দানা।
গ্রামীণ রায়লসীমার ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্কের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে এতে। ট্রেলারের পরের অংশে দেখা যায়, দুর্ভিক্ষে মানুষের অনাহার, মৃত্যু ও দুর্ভোগের ভয়াবহ চিত্র। একদিকে সাধারণ মানুষের অসহায়তা, অন্যদিকে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সিনেমায় ব্রিটিশ কমিশনার স্যার থিওডোর হেক্টর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আর্নল্ড ভসলো। ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব স্যার রিচার্ড টেম্পলের আদলে চরিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে গ্রামবাসীকে রক্ষায় অস্ত্র হাতে তুলে নেয় রানাবালি। তার লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলনে অংশ নেওয়া নয়; বরং নিজের মানুষ ও জমি রক্ষা করা। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জয়াম্মাকেও প্রতিরোধের লড়াইয়ে রানাবালির সঙ্গে দাঁড়াতে দেখা যায়। গ্রামবাসীকে বাঁচানো এবং ব্রিটিশ বাহিনীর মোকাবিলায় তার সক্রিয় অংশগ্রহণের দৃশ্য রয়েছে ট্রেলারে। শেষ দিকে সিঙ্গানামালা গ্রামের মানুষ ও ব্রিটিশ বাহিনীর মধ্যে বড় সংঘর্ষের আভাস দেওয়া হয়েছে।
গবেষণা ও নির্মাণ : ‘ট্যাক্সিওয়ালা’ ও ‘শ্যাম সিংহ রায়’ সিনেমার পরিচালক রাহুল সাংকৃত্যন ‘রানাবালি’ নির্মাণ করেছেন। বিজয় দেবরাকোন্ডার সঙ্গে এটি তার আরেকটি কাজ। পরিচালক জানিয়েছেন, চিত্রনাট্যটি চূড়ান্ত করতে তিন বছরে ২৪টি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সিনেমাটির জন্য মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। এ কাজে বল্লারি কালেক্টরেটের আর্কাইভে সংরক্ষিত ব্রিটিশ গেজেট, স্থানীয় লোককথা এবং রায়লসীমার বুর্রা কথা পরিবেশনাশৈলী থেকে উপাদান নেওয়া হয়েছে।
বিজয় দেবরাকোন্ডা, রাশমিকা মান্দানা ও আর্নল্ড ভসলোর পাশাপাশি সিনেমাটিতে আরও কয়েকজন অভিনয়শিল্পী রয়েছেন। মিথ্রি মুভি মেকার্সের ব্যানারে সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন নবীন ইয়েরনেনি ও ওয়াই রবি শঙ্কর। উপস্থাপনায় রয়েছে টি-সিরিজ। আগামী ১৬ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ‘রানাবালি’র। এর এক দিন আগে মুক্তি পাওয়ার কথা রজনীকান্ত অভিনীত ‘জেলার ২’ সিনেমার।
