আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৪০ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও বেড়েছে এবং দেশটির অস্ত্রভান্ডারে উন্নত অস্ত্র যুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সময়ে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা বাড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি জানান, ৪০ দিনের সংঘাতের পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে অস্ত্রভান্ডারে কী ধরনের নতুন অস্ত্র যুক্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।
মোহেব্বির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা হবে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। তবে সংঘাত আবারও শুরু হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সাফল্য দেখানোর তাগিদ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তেহরান আগের চেয়েও শক্তিশালী জবাব দেবে।
নেতানিয়াহুর অবস্থান, আপাতত ইরানে হামলার পরিকল্পনা নেই
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—এমন খবর প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২। তবে বুধবার নেতানিয়াহু বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে হামলা চালানো সুবিধাজনক হবে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। নেতানিয়াহু অবশ্য আপাতত ইরানে আগাম হামলার পক্ষে অবস্থান নেননি। তবে ইরান বা তাদের মিত্রগোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
নেতানিয়াহু আরও বলেছেন, তাঁর দল লিকুদ পার্টি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করলে বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভিরকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে না। বেন গিভির এ পদ চাইলেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লিকুদ পার্টির মধ্যেই থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইরানও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরান আগাম হামলা চালাবে—এমন দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে সামরিক স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫-এর প্রধান কেন ম্যাককালাম। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বার্ষিক বক্তব্যে তিনি বলেন, সামরিক ঘাঁটির মতো কঠিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়ে ইরানের আগ্রহে এ বছর বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।
এ সতর্কবার্তার পেছনে রয়েছে ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ঘটনা। ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সেখানে সন্দেহজনক কয়েকটি গাড়ির উপস্থিতির পর পুলিশ অভিযান চালায় এবং কয়েকজনকে আটক করে। গাড়িগুলোতে পেট্রল পাওয়া গেলেও বিস্ফোরক উদ্ধারের তথ্য জানায়নি পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের সরকারপ্রধান অ্যান্ডি বার্নহ্যাম অভিযোগ করেছেন, ওই ঘটনার পেছনে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। তবে ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তদন্ত চলমান থাকায় ঘটনাটির বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি এমআই৫ প্রধান।
ম্যাককালাম জানান, গত এক বছরে ইরান-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড ঠেকাতে যুক্তরাজ্যে ৫০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাঁর মতে, ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়; যুক্তরাজ্যের বাইরেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তবে দেশটিতে ইরান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জটিল ও বড় ধরনের হামলা চালানোর সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ইরানের অস্ত্রভান্ডারে নতুন উন্নত অস্ত্র যুক্ত হওয়ার দাবি এবং যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কবার্তা—দুই ঘটনাই যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা তুলে ধরেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
সূত্র: রয়টার্স
