ঢাকা, ১৩ অক্টোবর- সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বার্লিনে তিন দিনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি সফর বাতিল করেছেন।
সম্মেলনে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে ইউরোপে বসবাসরত কয়েকটি সংগঠন আপত্তি জানানোর মধ্যে তার সফর বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানা গেল। তবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যগত কারণে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না।
রবিবার শুরু হওয়া এবারের ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট’-এর প্রতিপাদ্য হলো ‘সংকট থেকে স্থিতিস্থাপকতা: স্বাস্থ্যের জন্য উদ্ভাবন।’ বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার পর্যন্ত সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে অংশ নেবেন। এসব সেশনে বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংকট এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন তারা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জোবাইদা রহমানও সম্মেলনের একটি সেশনে অংশ নেবেন বলে আয়োজকদের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের আরেকটি সেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল মুহাম্মদ ইউনূসের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওয়েবসাইটে বক্তা হিসেবেও তার নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ওয়েবসাইট থেকে তার নাম সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের কমিউনিকেশন টিমের পক্ষে আনা স্টোরমার ইমেইলে জানান, স্বাস্থ্যগত কারণে মুহাম্মদ ইউনূস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন।
তবে ঢাকায় ইউনূস সেন্টারে যোগাযোগ করেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, বাংলাদেশের হামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিন সপ্তাহ আগে ইউরোপভিত্তিক পাঁচটি সংগঠন সম্মেলনে ইউনূসের অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছিল।
এ বিষয়ে সাউথ এশিয়া ডেমোক্র্যাটিক ফোরাম, বেলজিয়াম, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য, ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ ইন জার্মানি, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স একটি পিটিশনও জমা দিয়েছিল।
পিটিশনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সেই পর্যালোচনা শেষ হওয়ার আগে মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মেলনের বিশেষ বক্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে পিটিশনে উল্লেখ করা হয়।
এস এম/ ১৩ অক্টোবর ২০২৬
