ঢালিউডে তারকার জনপ্রিয়তা, ঈদের উৎসব আর বড় বাজেটের সিনেমা, একসময় ব্যাবসায়িক সাফল্যের বড় ভরসা ছিল এসবই। বিশেষ করে শাকিব খান অভিনীত সিনেমা মুক্তি মানেই প্রেক্ষাগৃহে বাড়তি দর্শক, হল মালিকদের আশাবাদ আর প্রযোজকদের নতুন করে বিনিয়োগের সাহস। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই হিসাব পুরোপুরি মেলেনি। বছরের শুরুতে আলোচনায় থাকা সিনেমাগুলোর অনেকই প্রত্যাশার জায়গা থেকে পিছিয়ে পড়েছে। বড় তারকার উপস্থিতি, প্রচারণার চাকচিক্য কিংবা ঈদ কেন্দ্র করে একসঙ্গে একাধিক সিনেমা মুক্তি, কোনোটিই সামগ্রিকভাবে ঢালিউডের ব্যাবসায়িক চিত্র বদলে দিতে পারেনি।
বিশেষ করে শাকিব খানের জন্য বছরটি এখন পর্যন্ত স্বস্তির নয়। তার অভিনীত ‘প্রিন্স : ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ ও ‘রকস্টার’ নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশা ছিল অনেক। দুটি সিনেমা ঘিরেই মুক্তির আগে তৈরি হয়েছিল আলোচনা। কিন্তু আগের কয়েক বছরের ‘প্রিয়তমা’, ‘তুফান’, ‘রাজকুমার’ কিংবা ‘বরবাদ’-এর মতো আলোচনার সঙ্গে ব্যাবসায়িক সাফল্যের সমন্বয় এবার দেখা যায়নি। যদিও ‘প্রিন্স’ মুক্তির শুরুতে উল্লেখযোগ্য দর্শক টেনেছে, তবু শাকিবের ক্যারিয়ারে সাম্প্রতিক বছরগুলোর বড় সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ২০২৬ সাল এখন পর্যন্ত হতাশার।
চলচ্চিত্রের ব্যবসা নিয়ে নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ বক্স অফিসের হিসাব প্রকাশের ব্যবস্থা বাংলাদেশে এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়। ফলে কোনো সিনেমার আয়, নির্মাণব্যয়, প্রচার খরচ ও প্রযোজকের প্রকৃত লাভ-লোকসানের হিসাব নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবু মুক্তির পর দর্শকের সাড়া, প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন, সিনেমা নিয়ে আলোচনা এবং পরবর্তী সময়ে আলোচনার স্থায়িত্ব বিবেচনায় চলতি বছরের অধিকাংশ আলোচিত সিনেমাই প্রত্যাশিত প্রভাব তৈরি করতে পারেনি। কিছু সিনেমা দর্শক পেয়েছে, কোনো কোনোটি সমালোচকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছে। কিন্তু বিচ্ছিন্ন সাফল্য ঢালিউডের পুরো বছরের ব্যাবসায়িক স্থবিরতা কাটানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি।
শাকিব খানের জন্য চলতি বছর বড় পরীক্ষা ছিল ‘প্রিন্স’ ও ‘রকস্টার’। দুই সিনেমার ক্ষেত্রেই ছিল আলাদা প্রস্তুতি, প্রচার এবং দর্শকের আগ্রহ। কিন্তু দুই সিনেমার ফলাফলকে এক কাতারে ফেলা যায় না। ‘প্রিন্স’ মুক্তির প্রথম দিকে সিঙ্গেল স্ক্রিনে দর্শক টেনেছে, অন্যদিকে ‘রকস্টার’ মুক্তির আগে তৈরি হওয়া প্রত্যাশা ধরে রাখতে পারেনি। ফলে শাকিবের বছরটিকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলার চেয়ে বলা যায়, তার সিনেমাগুলো আগের কয়েক বছরের সাফল্যের মানদ- পূরণ করতে পারেনি।
ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় শাকিবের ‘প্রিন্স : ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর সিঙ্গেল স্ক্রিন ও বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও মাঝারি ধরনের সাড়া পেয়েছিল। এর আয়ের প্রাথমিক পরিসংখ্যান বা কিছু শো হাউসফুল যাওয়ার খবর গণমাধ্যমে এলেও মাসব্যাপী বা দীর্ঘ সময় ধরে সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোয় সিনেমাটি রাজত্ব করার মতো কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এরপর ঈদুল আজহায় মুক্তি পায় ‘রকস্টার’। শাকিবের নতুন লুক, ফার্স্টলুক ও টিজার নিয়ে দর্শকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সিনেমাটিতে গানও ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়। কিন্তু মুক্তির পর সেই আগ্রহ বড় ব্যাবসায়িক সাফল্যে রূপান্তর করা যায়নি। একটি সিনেমার প্রচার যত আকর্ষণীয়ই হোক, শেষ পর্যন্ত দর্শক হলে ফিরবেন কি না, তা নির্ভর করে গল্প, নির্মাণ, অভিনয়, দর্শকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া প্রতিক্রিয়া এবং সিনেমাটি দেখার সামগ্রিক অভিজ্ঞতার ওপর।
শাকিবের ক্ষেত্রে প্রত্যাশার চাপও অন্যদের চেয়ে বেশি। কারণ, ‘প্রিয়তমা’, ‘রাজকুমার’, ‘তুফান’ ও ‘বরবাদ’-এর মতো সিনেমা তাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নতুন করে বাণিজ্যিক সাফল্যের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিল। ফলে তার নতুন সিনেমা মুক্তি পেলেই দর্শক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা থাকে, সিনেমাটি আগের সাফল্য ছাড়িয়ে যাবে কিংবা অন্তত সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় পাঁচটি আলোচিত সিনেমা। এগুলো হলো আবু হায়াত মাহমুদের ‘প্রিন্স’, রেদওয়ান রনির ‘দম’, তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, মেহেদী হাসান হৃদয়ের ‘রাক্ষস’ এবং রায়হান রাফির ‘প্রেশার কুকার’। ভিন্ন ঘরানা ও পরিচিত অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতির কারণে সিনেমাগুলো মুক্তির আগে থেকেই আলোচনায় ছিল।
এই পাঁচ সিনেমার মধ্যে ‘দম’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মাল্টিপ্লেক্সে দর্শকের আগ্রহ তৈরি করে। আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী ও পূজা চেরি অভিনীত ‘দম’ নিয়ে দর্শকের কৌতূহল ছিল। সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত গল্প এবং বিদেশে শুটিংয়ের কারণে সিনেমাটি মুক্তির আগেও আলোচনায় ছিল। অন্যদিকে, তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রচার ও উপস্থাপনার কারণে আলাদা মনোযোগ পায়। মুক্তির পরও দুটি সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহের খবর প্রকাশিত হয়।
‘রাক্ষস’ সিনেমায় সিয়াম আহমেদকে অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে দেখা গেছে। মেহেদী হাসান হৃদয়ের পরিচালনায় সিনেমাটি মুক্তির আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। ‘প্রেশার কুকার’ নিয়েও দর্শকের আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। ফলে ঈদুল ফিতরের সিনেমাগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলা না গেলেও, সেগুলোর কোনোটিই বাণিজ্যিকভাবে খুব একটা সফল হতে পারেনি।
ঈদে সিনেমার সংখ্যা বেশি থাকলেও সারা বছর প্রেক্ষাগৃহে নিয়মিত মানসম্মত সিনেমা সরবরাহের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়নি। ফলে ঈদের মৌসুমে কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও পরবর্তী মাসগুলোয় সেই গতি ধরে রাখা যায়নি।
শাকিবের জনপ্রিয়তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে প্রতিটি সিনেমায় একই রকম ব্যাবসায়িক ফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই; বরং তার মতো বড় তারকার সিনেমায় গল্প ও নির্মাণের দুর্বলতা থাকলে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান আরও বেশি চোখে পড়ে।
ঈদুল আজহায় আটটি সিনেমা মুক্তির তালিকায় ছিল ‘রকস্টার’, ‘রইদ’, ‘বনলতা সেন’, ‘মালিক’, ‘মাসুদ রানা’, ‘তছনছ’, ‘অফিসার’ ও ‘পিনিক’। একসঙ্গে এতগুলো সিনেমা মুক্তি পাওয়ায় প্রেক্ষাগৃহ, প্রদর্শনীর সময় এবং দর্শকের মনোযোগ ভাগ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
ঈদ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার। ছুটির সময় দর্শক তুলনামূলক বেশি সিনেমা দেখতে প্রেক্ষাগৃহে যান। এ কারণে নির্মাতা ও প্রযোজকেরা ঈদ কেন্দ্র করে সিনেমা মুক্তি দিতে আগ্রহী হন। কিন্তু একই সময়ে অনেক সিনেমা মুক্তি পেলে প্রতিটি সিনেমার জন্য পর্যাপ্ত প্রচার, হল এবং প্রদর্শনীর সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে; বিশেষ করে সীমিতসংখ্যক প্রেক্ষাগৃহ ও নির্দিষ্ট দর্শক বাজারের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়।
‘রইদ’ ও ‘বনলতা সেন’ নির্মাণ ও বিষয়বস্তুর কারণে আলোচনায় ছিল। ‘মালিক’-এ আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিমের জুটি দর্শকের আগ্রহ তৈরি করেছিল। ‘মাসুদ রানা’ পরিচিত চরিত্রের কারণে আলাদা প্রত্যাশা নিয়ে মুক্তি পায়। কিন্তু এসব সিনেমার কোনোটিই ঈদের বাজারে এমন বড় ব্যাবসায়িক প্রভাব তৈরি করতে পারেনি, যা পুরো বছরের হিসাব পাল্টে দিতে পারে।
এখানে সমস্যাটি শুধু সিনেমার সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। মুক্তির আগে পরিকল্পিত প্রচার, দর্শকের কাছে সিনেমার গল্প ও নির্মাণের ধরন তুলে ধরা, হলের সঙ্গে সমন্বয় এবং মুক্তির পর দর্শকের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী প্রদর্শনীর পরিকল্পনাÑ সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে দুর্বলতা থাকলে ভালো সম্ভাবনাময় সিনেমাও দর্শকের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাতে পারে না।
চলতি বছর শাকিব খানের বাইরে অন্য তারকাদের সিনেমাও প্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জে পড়েছে। ‘রাক্ষস’ দিয়ে সিয়াম আহমেদকে অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে দেখা গেছে। সিনেমাটির ট্রেলার ও প্রচার দর্শকের আগ্রহ তৈরি করেছিল। কিন্তু মুক্তির পর সেই আগ্রহকে বড় ব্যাবসায়িক সাফল্যে রূপান্তরের নজির পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘মালিক’ সিনেমার মাধ্যমে বিরতির পর বড় পর্দায় ফিরেছিলেন আরিফিন শুভ। তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম। প্রায় সাত বছর পর এই জুটির পর্দায় ফেরা নিয়ে দর্শকের কৌতূহল ছিল। কিন্তু সিনেমাটি মুক্তির পর সেই মাত্রার আলোচনা ধরে রাখতে পারেনি। তবে কিছু হল সিনেমাটি চালিয়ে ব্যবসা করেছে।
এসব উদাহরণ দেখায়, ঢালিউডের সমস্যাটি কোনো একক তারকা কিংবা একটি সিনেমার ব্যর্থতায় সীমাবদ্ধ নয়। পরিচিত মুখ, জনপ্রিয় জুটি কিংবা অ্যাকশননির্ভর গল্পের পাশাপাশি সিনেমার নির্মাণমান, প্রচার ও দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। তারকানির্ভর বাজারে পরিচিত নাম শুরুতে দর্শকের আগ্রহ তৈরি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ব্যাবসায়িক সাফল্যের জন্য তা একমাত্র উপাদান নয়।
২০২৬ সালের চলচ্চিত্রবাজারের আরেকটি বড় সমস্যা হলো, মুক্তির ধারাবাহিকতার অভাব। বছরের কোনো কোনো মাসে একাধিক সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, আবার কোনো মাসে নতুন সিনেমা ছিলই না। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সীমিতসংখ্যক সিনেমা মুক্তির পর ঈদুল ফিতরে একসঙ্গে পাঁচটি সিনেমা আসে। মে মাসে ঈদুল আজহা ঘিরে আটটি সিনেমাসহ মোট ১৩টি সিনেমা মুক্তির হিসাব পাওয়া যায়। এর বিপরীতে এপ্রিল মাসে কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি।
এই অনিয়মিত পরিস্থিতি চলচ্চিত্রের বাজারকে স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না। প্রেক্ষাগৃহে নিয়মিত নতুন সিনেমা না থাকলে দর্শকের অভ্যাস তৈরি হয় না। আবার অল্প সময়ে অনেক সিনেমা মুক্তি পেলে সব সিনেমার জন্য সমান প্রচার ও প্রদর্শনীর সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়। এর প্রভাব পড়ে প্রযোজক, পরিবেশক, হল মালিক ও দর্শকের ওপর।
এ ছাড়া সিনেমা নির্মাণের পর দীর্ঘদিন মুক্তির অপেক্ষায় থাকা, শেষ মুহূর্তে মুক্তির তারিখ পরিবর্তন এবং পর্যাপ্ত প্রচার ছাড়াই সিনেমা মুক্তির প্রবণতা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। প্রযোজকেরা ঝুঁকি নিতে চান না, আর দর্শকেরাও কোন সিনেমাটি দেখবেন, সে বিষয়ে আগাম ধারণা পান না। ফলে ভালো সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি পরিকল্পিত মুক্তির ব্যবস্থাও জরুরি হয়ে উঠেছে।
বছরের শেষ দিকে ঢালিউডের ব্যাবসায়িক চিত্রে পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আলোচিত কয়েকটি সিনেমা বছরের শেষ দিকে মুক্তির পরিকল্পনায় থাকলেও সেগুলোর সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রায়হান রাফি পরিচালিত ‘আন্ধার’ প্রথমে চলতি বছরের অক্টোবরে মুক্তির কথা ছিল। পরে মুক্তির তারিখ পরিবর্তন করে ২০২৭ সালের ২৬ মার্চ নির্ধারণ করা হয়। ফলে বছরের শেষ প্রান্তে আলোচিত সিনেমাটি ঘিরে যে প্রত্যাশা ছিল, তা আর পূরণ হচ্ছে না।
অন্যদিকে, শাকিব খান অভিনীত ‘সোলজার’ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সিনোটির ৯ দিনের শুটিং বাকি ছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। নির্মাণ শেষ না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে মুক্তি সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া ‘সুড়ঙ্গ ২’ নিয়েও বছরের শেষ দিকে মুক্তির প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি জানা গেছে, সিনেমাটির শুটিংই শুরু হয়নি। ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বরে মুক্তির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বছরের শেষ ভাগে বড় তারকাদের সিনেমা মুক্তির অনিশ্চয়তা বাজারে নতুন করে আশার সঞ্চার করার সুযোগও সীমিত করে দিয়েছে।
বছরের শেষ দিকে নতুন সিনেমা মুক্তি পেলেও সেগুলো দিয়ে পুরো বছরের মন্দা কাটানো সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করবে দর্শকের সাড়া ও ব্যাবসায়িক ফলাফলের ওপর। শুধু বড় তারকার সিনেমা মুক্তি পেলেই যে বাজারে বড় পরিবর্তন আসবে, তার নিশ্চয়তা নেই।
সিনেমা ভালো হলে, গল্পে নতুনত্ব থাকলে এবং নির্মাণে যতেœর ছাপ থাকলে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে যেতে আগ্রহী হন। কিন্তু পরিচিত তারকা কিংবা উৎসবের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে বাজারকে শক্তিশালী করতে পারে না। সারা বছর মানসম্মত সিনেমা মুক্তি, নিয়মিত প্রচার, প্রেক্ষাগৃহের উন্নয়ন এবং দর্শকের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে ঢালিউডে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছেন শাকিব খান। তার সিনেমা ঘিরে দর্শকের আগ্রহ এখনো চলচ্চিত্রের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ২০২৬ সালের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, তারকাখ্যাতি থাকলেই প্রতিটি সিনেমা ব্যাবসায়িক সাফল্য পাবে না। ‘প্রিন্স’ ও ‘রকস্টার’ নিয়ে প্রত্যাশা থাকলেও আগের কয়েক বছরের বড় সাফল্যের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়নি।
তার সামনে এখন নতুন সিনেমা বাছাই, গল্পের বৈচিত্র্য, নির্মাতার সঙ্গে পরিকল্পনা এবং মুক্তির কৌশল নিয়ে আরও সতর্ক হওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রশিল্পেরও প্রয়োজন তারকানির্ভরতার বাইরে গিয়ে শক্তিশালী গল্প, দক্ষ নির্মাণ ও নিয়মিত মুক্তির পরিবেশ গড়ে তোলা।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের প্রথম দশ মাস ঢালিউডের জন্য বড় সাফল্যের বছর হয়ে উঠতে পারেনি। কিছু সিনেমা দর্শক পেয়েছে, কিছু সিনেমা আলোচনাও তৈরি করেছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বাজারে স্থায়ী গতি আসেনি। শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় তারকার সিনেমাও প্রত্যাশার সবটুকু পূরণ করতে না পারায় সেই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। বছরের শেষ দুই মাসে নতুন কোনো সিনেমা বড় সাফল্য এনে দিতে পারে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, ঢালিউডের ব্যবসা ফেরাতে শুধু তারকার নাম নয়, প্রয়োজন ভালো সিনেমা, পরিকল্পিত মুক্তি এবং দর্শকের আস্থা ধরে রাখার ধারাবাহিকতা।
